অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু রহস্যের জাল এখনও খোলেনি। তদন্ত এখনও চলছে। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়াতে রটেছে যে প্রয়াত অভিনেতার মৃত্যু তদন্ত শেষ করে ফেলেছে সিবিআই। কিন্তু এই খবর যে সম্পূর্ণ ভুয়ো ও ভিত্তিহীন, তা জানিয়ে দিল খোদ সিবিআই।
সোশ্যাল মিডিয়াতে কয়েকদিন ধরেই ভেসে আসছে একটা খবর যে সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু মামলার নাকি ইতি টানতে চলেছে সিবিআই। খুব শিগগিরই আদালতে রিপোর্ট জমা পড়বে। কিন্তু এই খবরের কোনও সত্যতা আদপেই নেই। সুশান্তের মৃত্যু রহস্য নিয়ে তদন্ত এখনও চলছে। তবে সিবিআই সুশান্তের মৃত্যুর ঘটনাকে আত্মহত্যা হিসেবেই ব্যাখা করবে, এমনটা শোনা গিয়েছে। কেন্দ্রীয় সংস্থার মতে, অভিনেতার মৃত্যুতে এখনও পর্যন্ত কোনওরকম অস্বাভাবিকত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। কিন্তু এখনও বেশ কিছু তদন্ত বাকি এবং তা করতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে বলে জানানো হয়েছে সিবিআই-এর তরফ থেকে। তদন্তের কাজ শেষ হয়ে এসেছে বলে যে খবর ছড়িয়েছে তা নেহাতই অনুমানভিত্তিক।
গত বুধবার সুশান্তের মৃত্যুর চারমাস পূর্ণ হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়াতে তার অনুরাগীরা প্রয়াত অভিনেতাকে স্মরণ করে নানা রকমের পোস্ট করেছেন। তার মৃত্যুর সুবিচারের জন্য দাবী জানিয়েছেন অনেকে। এই মুহূর্তে সিবিআই, নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো ও এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টারেট, এই তিন কেন্দ্রীয় সংস্থা সুশান্তের মৃত্যুর তদন্তে রয়েছে।
গত ১৪ই জুন অভিনেতার বান্দ্রার ফ্ল্যাট থেকে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। কুপার হাসাপাতালে সুশান্তের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট থেকে জানা যায়, আত্মহত্যাই করেছেন অভিনেতা। কিন্তু তার পরিবার ও ভক্তমহল তা মানতে নারাচ। অভিনেতাকে খুন করা হয়েছে বলে সন্দেহের আঙ্গুল উঠে সুশান্তের বান্ধবী অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তীর দিকে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন সুশান্তের বাবা কে কে সিংও। এরপর বিহার পুলিশ এই মামলার তদন্ত করে।
এরপর তার মৃত্যুর তদন্তের ভার যায় সিবিআই-এর উপর। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠানো হয় রিয়াকে। এরপরই রিয়া ও তার ভাইয়ের সঙ্গে মাদকযোগের দিকটি সামনে আসে। এই অভিযোগে রিয়া ও তার ভাই শৌভিক-সহ আরও ১৮জনকে এনসিবির তরফ থেকে গ্রেফতার করা হয়। কিছুদিন আগে রিয়া শর্তসাপেক্ষ জামিনে ছাড়া পেলেও এখনও জেল হেফাজতেই আছে শৌভিক।
অন্যদিকে, দিল্লির এইমসের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের একটি দল সুশান্তের ভিসেরা নমুনা পরীক্ষা করে জানায় যে, সুশান্তকে খুন করা হয়, বরং আত্মহত্যাই করেছিলেন অভিনেতা। তবে, এই দলের নেতৃত্বে থাকা ডঃ সুধীর গুপ্ত-এর একটি ফোন রেকর্ড নিয়ে তৈরি হয় চাঞ্চল্য। ওই ফোন রেকর্ডে তাকে বলতে শোনা যায় যে সুশান্তের মৃত্যু আসলে খুন। তিনি কেন একথা বলেছেন তাও খতিয়ে দেখা হবে। এই কারণেই সিবিআই-এর তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে সুশান্তের মৃত্যুর মামলা এখনও বাকি।





