আজ দিনটা বড়দিন হয়ে গেল ভারতের ফিল্ম জগতে। সকাল থেকে অভিনেতা ইরফান খানের চলে যাওয়ার খবরে বিমর্ষ আপামর ভারতবাসী। একজন দক্ষ অভিনেতার চলে যাওয়া কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না কেঊই। জ্বলতা বদন নাটক দিয়ে অভিনয়ের শুরু, তারপর এই প্রতিভাকে নিভতে হয়নি কখনও। জহুরির চোখ ঠিক চিনে নিয়েছে আসল হীরেকে। তাই তো হলিউড থেকেও আসত নিরন্তর ডাক। নয় নয় করে দশটা হলিউড ছবিতে অভিনয় করা হয়ে গিয়েছে শান্ত অথচ বাঙ্ময় চোখের এই লোকটির। কিন্তু ওখানে থিতু হননি তিনি। হলিউডের আরও অনেক ছবিতে অভিনয় করার সুযোগ ছিল। কিন্তু তিনি ভারত ছেড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে স্থায়ীভাবে থাকতে চাননি। সেই কারণে অনেক প্রস্তাবই ফিরিয়ে দেন। সেই প্রস্তাবের মধ্যে লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও, স্টিফেন স্পিলবার্গের মত নামও আছে।
২০১৬ সালে একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরফান জানিয়েছিলেন, ‘আমি অনেক প্রস্তাব পেয়েছি। আমার বয়স কম হলে হয়তো হলিউডে পাড়ি জমানোর কথা ভাবতাম। কিন্তু আমি কোনওদিন ভারত ছাড়ার কথা ভাবিনি। এখানে আমার আপনজনেরা আছেন। তাঁদের নিয়েই আমার জীবন। এখন ভারতে অন্যধারার ছবি হচ্ছে। এই সাহসী, নতুন বিশ্বের একটি অংশ হতে পেরে আমি খুশি।’
স্টিফেন স্পিলবার্গ, ম্যাট ড্যামন, ম্যাথু ম্যাককনাগে, অ্যানি হ্যাথওয়ে, লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও, ক্রিস্টোফার নোল্যান, রিডলি স্কটের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন ইরফান। কোনওবার সময় হয়নি, আবার কোনও সময় চরিত্র পছন্দ হয়নি, চিত্রনাট্য অনুযায়ী কতটা গুরুত্ব পাবেন সে বিষয়ে নিশ্চিত না হওয়ায় অভিনয় করতে রাজি হননি। একটি ছবিতে তাঁর স্কার্লেট জনসনের সঙ্গে অভিনয় করার কথা ছিল। কিন্তু সেই প্রস্তাবও তিনি ফিরিয়ে দেন।
কিন্তু আজ তিনি সবকিছুর উর্ধ্বে। মাত্র ৫৩ বছর বয়সে স্বর্গে পা রাখলেন এই কালজয়ী অভিনেতা। তাঁর অভিনয় নিয়ে প্রশ্ন তোলার সাহস আজ পর্যন্ত কেউ করেননি। ওপারে ভাল থাকুন ইরফান।






