শীতকাল মানেই মিষ্টি। বড়দিনের কেক, মোয়া থেকে শুরু করে পৌষ পার্বণের নতুন গুড়, পিঠে-পুলি সবই রয়েছে। এই কারণেই বোধ হয় এই সময়কেই নিজের ছবি মুক্তির উপযুক্ত সময় হিসেবে বেছে নিয়েছেন পরিচালক মৈনাক ভৌমিক। আরে, তা হবে নাই বা কেন, তার ছবিতেই যে মিষ্টি ঠাসা। এই শীতকালেই মুক্তি পেতে চলেছে মধুমিতা ও অপরাজিতা আঢ্য অভিনীত মিষ্টি ছবি ‘চিনি’। মা ও মেয়ের মিষ্টি সম্পর্কের গল্প বলবে এই ছবি।
এই ছবি সম্পর্কে মধুমিতার বক্তব্য, এই ছবির মধ্যে দিয়ে মা ও সন্তান নিজেদের খুঁজে পাবেন। যে জিনিসগুলো সাধারণত রোজকার জীবনে আমাদের চোখ এড়িয়ে যায়, সেই সব খুঁটিনাটি বিষয়গুলিও এই ছবিতে ধরা পড়বে। মধুমিতা এও বলেন যে, “চিনি তো পুরোটাই আমি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরোটাই আমি। খুব জোর দিয়ে বলছি, চিনি একবারেই আমি”।

এই প্রথম নয় যে মধুমিতা কোনও চরিত্রে এত সাবলীলভাবে অভিনয় করেছেন। এর আগেও ছোটো পর্দায় পাখি ও ইমনের চরিত্র ও ‘লাভ আজ কাল পরশু’ ছবিতে তিস্তার চরিত্রে বিশেষভাবে নজর কেরেছেন তিনি। এই চরিত্র প্রসঙ্গে মধুমিতা বলেন, তিনি এর আগে যত রকম চরিত্রে অভিনয় করেছে, সবেতেই কিছু না কিছু বাড়তি অনুভূতি তাকে যোগ করতে হয়েছে, তবে সেই চরিত্রের সঙ্গে তিনি একাত্ম হতে পেরেছেন। তবে তিনি জানান যে চিনির চরিত্রে অভিনয় করতে তাকে কোনও কষ্ট করতে হয়নি।
এই চরিত্রে অভিনয় করতে অপরাজিতা আঢ্য ও সৌরভও যে তাকে বেশ সাহায্য করেছেন, এও স্বীকার করেন অভিনেত্রী। এই করোনা পরিস্থিতিতে ছবি মুক্তি পেলে প্রেক্ষাগৃহ আদৌ কতটা ভরবে, তা নিয়ে চিন্তা থেকেই যাচ্ছে। তবে এ নিয়ে একেবারেই চিন্তিত নন মধুমিতা। তার কথায়, তিনি কাজ করে মজা পেয়েছেন, আর দর্শকের মতামতের অপেক্ষা করছেন।
পরিচালক মৈনাক ভৌমিক বলেন, “মা-মেয়ের অম্ল-মধুর সম্পর্ক থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনের ভালো-খারাপ বিভিন্ন মুহূর্তের কথা বলবে চিনি। আমার এমন একটা ছবি বানানোর লক্ষ্য ছিল যার সঙ্গে সমস্ত মানুষ নিজের মিল খুঁজে পান। অপরাজিতা আর মধুমিতার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা ভীষণ ভালো। সৌরভ দাসও নিজের ভূমিকায় যথাযথ”।
আর মধুমিতা বলছেন, “হিন্দি, ইংরাজিতে নারীকেন্দ্রীক অনেক ছবি হচ্ছে। মেয়েদের ভাবনাচিন্তাকে ছবিতে তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে। মেয়েরা অভিনয়ে কেবল রূপের জন্য আসে না। আমি এমন একটা সুযোগ পেয়ে অভিভূত যেখানে একজন নায়িকা হিসাবে সাজগোজের থেকে অনেক বেশি জরুরি ছিল অভিনয়”।
এসভিএফের প্রযোজনায় মুক্তি পেতে চলেছে এই নতুন ছবি ‘চিনি’। সংস্থার কর্ণধার মহেন্দ্র সোনি বলছেন, “এই বছরটা আমাদের জীবনে প্রচুর প্রভাব ফেলেছে। এই পরিস্থিতিতে আমাদের এমন একটা ছবির প্রয়োজন ছিল যেটা সহজেই মানুষের মনকে ছুঁয়ে যায়। মৈনাক ভৌমিকের ছবি নিয়ে দর্শকদের অনেক প্রত্যাশা থাকে। আর এত খারাপ খবরের মধ্যে একরাশ ইতিবাচক বার্তা নিয়ে আসবে চিনি”। এই নতুন ছবি দর্শকের মনে কতটা মিষ্টতা ছড়ায়, তা তো এখন সময়ই বলবে।





