গণপিটুনিতে নিহত চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও চলচ্চিত্র প্রযোজক সেলিম খান এবং তাঁর ছেলে নায়ক শান্ত খান। স্থানীয় এলাকায় প্রযোজকের পরিচিতি ছিল ‘বালুখেকো’ নামে। সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর এলাকা থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় বালিয়া ইউনিয়নের ফরক্কাবাদ বাজারে এসে জনগণের রোষের মুখে পড়েন তাঁরা।
ফরক্কাবাদ বাজারে আত্মরক্ষা করে বেরিয়ে আসতে পারলেও, পার্শ্ববর্তী বাগাড়া বাজারে এসে ফের আম জনতার মুখোমুখি হয় তাঁদের গাড়ি। সেখানেই গণপিটুনিতে নিহত হন সেলিম খান ও তাঁর ছেলে শান্ত।

চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শেখ মুহসীন আলম সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তাঁদের মৃত্যুর বিষয় আমরা জেনেছি। তবে এখনও পর্যন্ত খবর তাঁদের কাছে আসেনি। জানমালের নিরাপত্তার কারণে সেখানে কাউকে পাঠানো হয়নি।
প্রসঙ্গত, আওয়ামী সরকারের জামানায় সেলিম খান চাঁদপুর নৌ-সীমানায় পদ্মা-মেঘনা নদীতে ড্রেজার দিয়ে অবৈধ বালি তুলে কোটি টাকার মালিক হন। সেই ঘটনার দরুন বেশ কয়েকদিন জেলেও কেটেছে প্রযোজকের। তার বিরুদ্ধে মামলা বর্তমানেও বিচারাধীন।
সেলিম খান একজন জনপ্রিয় প্রযোজকও। শাপলা মিডিয়ার কর্ণধার। টলিউডেও তাঁর পসার নেহাত কম নয়। শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়ের ‘বিক্ষোভ’ নামের একটি সিনেমার প্রযোজনা করেছিলেন তিনি। শান্ত নিজে সিনেমার নায়ক ছিলেন। কৌশানি ‘প্রিয়া রে’ নামে একটা সিনেমা রিলিজের অপেক্ষায় শান্তর সঙ্গে। দেবের ‘কমান্ডো’ নামের একটি সিনেমা, যার শুটিং অসম্পূর্ণ প্রযোজক ছিলেন সেলিম খান। অপরদিকে, ২০১৯ সালে উত্তম আকাশ পরিচালিত ‘প্রেম চোর’ ছবির হাত ধরে সিনেমার মাধ্যমে অভিনয়ে ডেবিউ করেছিলেন শান্ত।





