বুকে স্নাইপারের গুলি! রক্তে ভিজে সেনার উর্দি। তবুও যুদ্ধের ময়দান ছাড়েননি ক্যাপ্টেন প্রেম রাজ! সম্মানিত মরণোত্তর বীর চক্র সম্মানে!

সেনা দ‍্যা বস! তাঁরাই পারেন অসাধ্য সাধন করতে। হাসতে হাসতে মৃত্যুবরণ করতে! বুকে গুলি নিয়ে বিপক্ষের সামনে প্রবল পরাক্রম দেখাতে। আজ থেকে ২১ বছর আগে পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে এমনই এক কার্গিল যোদ্ধার কাহিনী আজ‌ও অনুপ্রানিত করে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে।

বুক চিরে ঢুকেছিল স্নাইপারের গুলি। তার পরেও দেশ রক্ষায় বদ্ধপরিকর ছিলেন তিনি। তিনি কার্গিল যোদ্ধা ক্যাপ্টেন জেরি প্রেম রাজ। গুলি খেয়েও; পাক শত্রু নিকেশ করেছিলেন। সালটা ১৯৯৯। দিনটা ৯ই জুলাই। টাইগার হিলে; শত্রু পক্ষের গুলি খেয়ে রক্তাক্ত হয়েও প্রবল পরাক্রম দেখান তিনি ।

১৯৯৯-এর জুলাই মাসে; টাইগার হিলে পৌঁছে গিয়েছিল পাক হানাদার বাহিনী। উঁচু পাহাড় গুলো দখল করতে শুরু করে তাঁরা। তাঁদের সমুচিত জবাব দিতে সেখানে তখন উপস্থিত; ভারতীয় সেনাও। টাইগার হিলের পয়েন্ট ৫১৪০-এ; দায়িত্বে ছিলেন জেরি প্রেম রাজ।

পাক হানাদার-রা ছিল সুবিধাজনক পরিস্থিতিতে। তবে, তাতে ঘাবড়ান নি ভারতীয় সেনার এই অসম সাহসী ক্যাপ্টেন। শুরু হয় দুই পক্ষের গুলির লড়াই। পাকবাহিনীর স্নাইপারের গুলি বুক চিরে চলে যায় ক্যাপ্টেন প্রেম রাজের। কিন্তু ওই অবস্থাতেও লড়াইয়ের ময়দানে ছাড়েননি তিনি। নেতৃত্ব দিয়ে যান সামনে থেকে।

রক্তে ভিজে যায় সেনার উর্দি। সেই অবস্থাতেও নেতৃত্ব দিয়ে যান তিনি; লক্ষ্য টাইগার হিল পুনরদ্ধার। পরে ওই দিনই মৃত্যু হয় তাঁর। তাঁর অসীম সাহসিকতার জন্য; তাঁকে মরণোত্তর ‘বীর চক্র’ সম্মানে সম্মানিত করা হয়। আর কার্গিল বিজয়ের ২১তম বর্ষে ভারত মাতার এই বীর সন্তান’কে সশ্রদ্ধ প্রণাম।

আরও অন্যান্য খবর