কে এই বিহারের নতুন উপমুখ্যমন্ত্রী রেণুদেবী? হাওড়ার বিমা এজেন্ট থেকে কিভাবে হয়ে উঠলেন অন্যতম প্রশাসনিক প্রধান? পড়ে দেখুন

নাম রেণুদেবী (Renu Devi)। নিতীশ সরকারের উপমুখ্যমন্ত্রী (Deputy CM)। প্রায় বছর কুড়ি আগে পা রেখেছেন রাজনীতিতে। সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক পরিবার থেকে উঠে আসা রেণু দেবী‌ই সোমবার বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ গ্রহণ করলেন। তবে এতো সহজেই এই পদ হাসিল করেননি তিনি। এর পিছনে রয়েছে এক লম্বা ইতিহাস। রেণুদেবীর বাবা কৃষ্ণ প্রসাদ চাকরি করতেন রাজ্য জলসম্পদ দফতরে। খুব অল্প বয়সেই পা পড়ে পশ্চিমবঙ্গে। ১৯৭৩ সালে হাওড়ার পিয়ারলেস ইনস্যুরেন্স সংস্থায় কর্মরত দুর্গা প্রসাদের সঙ্গে বিয়ে হ‌ওয়ার পর রেণু দেবী আসেন বাংলায়।

জীবিকা নির্বাহ করতে ও পরিবারের পাশে দাঁড়াতে স্বামী যে সংস্থায় কাজ করতেন সেখানেই বিমার এজেন্ট হিসেবে যোগ দেন দশম শ্রেণি অবধি পড়া রেণুদেবী। মাত্র সাত বছরের বিবাহিত জীবন তাঁর। মারা যান দুর্গা প্রসাদ। এরপর বাংলা ছাড়েন রেণুদেবী। এক মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে বেট্টিয়াতে বাপের বাড়িতেই ফিরে আসেন তিনি। বর্তমানে যেটা তাঁর কর্মভূমিও।

১৯৯১ সালে জীবনে মোড় ঘোরে। সমস্তিপুরে এল কে আদবানীর রথ যাত্রা আটকায় লালু প্রসাদ সরকার। সেই সময় বিশ্ব হিন্দু পরিষদে যোগ দেন রেণুদেবী। এক বছর যেতে না যেতেই বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মহিলা শাখা দুর্গা বাহিনীর জেলা সভাপতি নির্বাচিত হন রেণু। সাফল্যও পান সেখানে। এরপর যোগ দেন ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি)। ১৯৯৫ সালে নৌতনে লড়াই করেন তিনি।

২০০০ সালে বিজেপি তাঁকে নিজের জেলা বেট্টিয়া থেকেই লড়াইয়ের ময়দানে নামায়। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বেট্টিয়া হিন্দু মহাসভা, আরএসএস আখড়া। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তাঁকে সাফল্য পেতে এই এলাকার তাঁর অবদান অনেকটা।

এরপর তাঁকে আর আটকানো সম্ভব হয়নি। সাংসদ হতে দেরি হয়নি ঘরের মেয়ে রেণুর। সকলকে ‘ভাইয়া’ বলেই সম্বোধন করেন তিনি। রেণু অবশ্য বেট্টিয়ার ‘দিদি’ হিসেবেই পরিচিত। সেই সময় মন্ডল রাজনীতিও রেণুর রাজনৈতিক কেরিয়ারে অন্যতম ভূমিকা নেয়। ২০০৫ সালে নীতীশ কুমারের সরকারে মন্ত্রীত্ব পান রেণু। ২০১০ সালেও বেট্টিয়ার আসন কায়েম রাখেন রেণু।

কিন্তু অদ্ভুতভাবে ২০১৫ সালে ছন্দপতন। নির্বাচনে হঠাৎই পরাজিত হন তিনি। অবাক হয়েছিল দল। সুশীল কুমার মোদী সাংবাদিকদের বলেই দিয়েছিলেন, “রেণু হেরেছেন এটা কীভাবে সম্ভব হল?” হারের ধাক্কা সামলে ২০২০ সালে ফের লড়াইয়ে নামলেন বেট্টিয়ার দিদি। ছিনিয়ে নিলেন জিত। আলোকিত করলেন উপমুখ্যমন্ত্রীর গদি।

আরও অন্যান্য খবর