সপ্তাহের শুরুতেই জগন্নাথধামে দর্শন বন্ধ হল ভক্তদের জন্য। এদিন বন্ধ থাকবে পুরীর গুণ্ডিচা মন্দির। বর্তমানে এই মন্দিরেই অধিষ্ঠিত রয়েছেন প্রভু জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা। রথযাত্রার সপ্তাহের এই দিনটিতে অনুষ্ঠিত হবে ‘বানাকা লাগি’ রীতি। এই কারণেই ভক্তদের সমাগমের উপর জারি করা হয়েছে নিষেধাজ্ঞা।
পুরীর মন্দির কমিটির তরফে জানানো হয়েছে যে এদিন বিকেল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত গুণ্ডিচা মন্দিরে দর্শন বন্ধ থাকবে। বানাকা লাগি রীতি অনুযায়ী এদিন প্রভু জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে নতুন সাজে সজ্জিত করা হবে। বিশেষ ধরণের সাজের সরঞ্জাম ইতিমধ্যেই আনা হয়েছে গুণ্ডিচা মন্দিরে।
উল্লেখ্য্য, রথযাত্রা উৎসবের আগেও গত ৮ই জুন এই বানাকা লাগি রীতি পালন করা হয়েছিল। সেইদিনও প্রভু জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার নতুন শৃঙ্গার করা হয়েছিল। সেইদিনও দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। বন্ধ ছিল মন্দিরের দরজা।
এই বানাকা লাগি রীতি আসলে কী?
ভগবানের মূর্তির নতুন শৃঙ্গার করাই হল বানাকা লাগি রীতি। প্রভু জগন্নাথ, বলরাম এবং সুভদ্রাকে উচ্চবর্ণের সেবায়েতরা সাজানোর কাজ করেন। এই সেবায়তদের বলা হয় দত্ত মহাপাত্র। এই দত্ত মহাপাত্র বর্ণের সেবায়েতরা জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রার মূর্তিতে শৃঙ্গারের করেন। ১২ শতাব্দীর মূর্তিগুলি চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা ধরে নতুন করে সাজিয়ে তোলার কাজ চলে এই দিন।
রথযাত্রার আগে মূল জগন্নাথদেবের মন্দিরের অন্দরে ভোগ মণ্ডপে জগমোহনের গুরুদা পিলারের কাছে হয় এই শৃঙ্গারের কাজ। তবে রথযাত্রায় মাসির বাড়ি যাওয়ার পর এই শৃঙ্গার হবে গুণ্ডিচা মন্দিরেই। কেবলমাত্র রথযাত্রা উপলক্ষ্যেই নয়, সারা বছরে প্রায় সাত থেকে আটবার এই শৃঙ্গার করা হয়।
এই বানাকা লাগি রীতিটি এসেছে ‘বানা’ শব্দ থেকে। এই বানা শব্দের অর্থ হল ‘জঙ্গল’ আর লাগি শব্দের অর্থ হল ‘আবেদন জানানো’। জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার মূর্তিসজ্জার জন্য জঙ্গলের চার ধরণের উপাদান ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে হলুদ রঙের হেঙ্গুলা, লাল রঙের হরিলতা ও সাদা রঙের শঙ্খ। এছাড়াও, জগন্নাথদেবের জন্য ব্যবহার করা হয় বিশেষ কালো রঙ। খুব যত্ন সহকারে এই রঙ করেন সেবায়তরা। এই কারণে এই সময়টা বন্ধ থাকে দেব দর্শন।





