গণেশের পাশে থাকে বলে কেউ কেউ একে কলাবউ বলেন। কিন্তু আসলে সেটি হল নবপত্রিকা। দুর্গাপুজোর সঙ্গে এই নবপত্রিকা অঙ্গাঙ্গিকভাবে জড়িয়ে। এই নবপত্রিকার পুজো মানুষের উৎসব পালন ও ধর্মাচরণের প্রাচীন রীতির ইঙ্গিত দেয়। দুর্গাপুজোর যেমন মাহাত্ম্য, ঠিক তেমনই মাহাত্ম্য রয়েছে নবপত্রিকারও।
এই নবপত্রিকায় থাকে কলাগাছ, গুঁড়ি-কচুর গাছ, হলুদ গাছ, জয়ন্তীর ডাল, বেলের ডাল, দাড়িম গাছ, অশোকের ডাল, মানকচুর গাছ ও ধানের গাছ। এই ন-টি গাছ নবপত্রিকা রচনার জন্য আবশ্যক।
আমরা জানি যে বেলতলায় দেবী দুর্গার অধিবাস হয়। ঠিক তেমনই বেলতলায় কিন্তু নবপত্রিকারও অধিবাস হয়। এরপর এই গাছগুলি কেবল আর গাছ থাকে না। তারা একত্রে হয়ে ওঠে দেবীর প্রতীক।
কলাগাছের অধিষ্ঠাত্রী দেবী হলেন ব্রাহ্মণী। কলাগাছের মধ্যে ব্রাহ্মণীর বিভূতি লক্ষ করা যায়। তাই হয়তো এইরকম সংযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। গুঁড়ি-কচুর অধিষ্ঠাত্রী দেবী হলেন কালিকা। তবে এক্ষেত্রে সরাসরি কোনও মিল কিছু পাওয়া যায় না। হরিদ্রার অধিষ্ঠাত্রী দেবী স্বয়ং দুর্গা। এক্ষেত্রে গাত্রবর্ণ তুলনীয়। বর্ষাশেষে সতেজ হলুদ গাছ যে উৎসবের অঙ্গীভূত হয়ে উঠতে পারে, এই মতোই গ্রহণযোগ্য।
জয়ন্তীর অধিষ্ঠাত্রী দেবী হলেন কার্তিকী। দেবসেনাপতি কার্তিক থেকেই দেবতাদের জয় সূচিত হয়। এই কারণে জয়ন্তী আর দেবী কার্তিকী মিলেমিশে এক হয়ে গিয়েছেন। বেলগাছ শিবের ভীষণ প্রিয়। তাই বেলের অধিষ্ঠাত্রী শিবা। আবার দাড়িম বা ডালিম গাছে রক্তদন্তিকার অধিষ্ঠান। এক্ষেত্রেও দাড়িমের রং এবং আকারের সঙ্গে সংযোগের মিল লক্ষ্য করা যায়।
অন্যদিকে, অশোকের অধিষ্ঠাত্রী দেবী হলেন শোকরহিতা। মানকচুগাছে অধিষ্ঠাত্রী দেবী চামুণ্ডা। আর ধানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী লক্ষ্মী।
দেবী দুর্গার পুজো শুরু হয় সপ্তমীর দিন। এদিন সকালেই নবপত্রিকার স্নান হয়। এই নয়টি গাছকে পাট দিয়ে বাঁধতে হয়। পাট বলতে রেশমের দড়ি বোঝায়। তবে এখন নিয়ম অনুযায়ী সামান্য রেশম রাখা হয়। এরপর এই নয় গাছকে নিয়ে যাওয়া হয় বেলতলায়। যে শাখায় জোড়া বেল থাকে, সেই শাখাটিকে কেটে এবার জুড়ে নেওয়া হয় নবপত্রিকার সঙ্গে।
রাজার অভিষেকে যেমন নানা নদী বা সমুদ্রের জল প্রয়োজন হয়, নবপত্রিকাকে স্নানের সময়ও সেই রীতি। নানা ঘটের জলে নবপত্রিকাকে স্নান করানো হয়। এরপর সমস্ত নিয়ম মেনে পুজো করে এই নবপত্রিকা স্থাপন করা হয় দুর্গাপ্রতিমার ঠিক ডান পাশে। গণেশের পাশে থাকে বলে একে কেউ কেউ কলাবউ বলেন।





