মাতৃভাষাকে গুরুত্ব না দিয়ে বা অবহেলা করে কোন জাতি উন্নতি করতে পারে না। দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোকে ধরা হোক বা ইউরোপের উন্নত রাষ্ট্রগুলোকে সব জায়গাতেই মাতৃভাষাকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়। ইংরেজি শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও জ্ঞান আদানপ্রদানের মাধ্যম।
অন্যদিকে ভারতে হিন্দি প্রধানত “বিমারু” রাজ্যগুলোর ভাষা। “বিমারু” রাজ্যের ভাষা গ্রহণ করলে “বিমার” হবার সম্ভাবনাই প্রবল। দক্ষিণ ভারত হিন্দিকে আটকাতে পেরেছে বলেই ওদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন হয়েছে। ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রে টাকা আসে অর্থাৎ কেন্দ্রের উপার্জন হয় মূলত দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলো, মহারাষ্ট্র, গুজরাত ও বাংলার থেকে। এবং সেই টাকার বড় অংশ ভর্তুকির মাধ্যমে বিলিয়ে দেওয়া হয় উত্তর ও মধ্যভারতে। উন্নত রাজ্যগুলো ভর্তুকি দেওয়া বন্ধ করলে উত্তরভারত ও মধ্যভারতের বেশীরভাগ রাজ্যে দুর্ভিক্ষ ঘটে যাবে।

ভারতের রাজ্য গুলোর মধ্যে বাংলা ভারতের ষষ্ঠ বৃহত্তম অর্থনীতি। যদিও বাংলায় ভাষাগত জাতীয়তাবাদ সবেমাত্র দু’বছর আত্মপ্রকাশ করেছে। অনেক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও ভৌগলিক এবং প্রাকৃতিক কারণে বাংলার অর্থনীতি এতটা বিকশিত। বাংলার মেধার বিকাশে বাংলা ভাষার ভুমিকা যত বেশী বাড়বে অর্থাৎ স্কুল শিক্ষা, উচ্চ শিক্ষা, চাকরি, পরিষেবা ক্ষেত্র সর্বত্র বাংলাভাষার ব্যবহার যত বাড়বে, বাংলার ভারতের শ্রেষ্ঠ রাজ্য হবার সম্ভাবনা তত বাড়বে।
পশ্চিমভারতের মধ্যে মহারাষ্ট্র গুজরাত দুই জায়গাতেই ভাষাগত জাতীয়তাবাদ প্রবল। মহারাষ্ট্রে মারাঠি জাতীয়তা গুজরাতে গুজরাতি অস্মিতা যার ফসল খোদ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নিজে। এবার ভাবুন “বিমারু” রাজ্যের ভাষা শিখে “বিমার” হতে চান, না নিজের মাতৃভাষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে নিজের রাজ্যের আর্থ-সামাজিক উন্নতি চান।
[bs-quote quote=”প্রতিবেদনটি লিখেছেন ” style=”style-4″ align=”center” author_name=”মনন মন্ডল” author_job=”সহযোদ্ধা, বাংলা পক্ষ ” author_avatar=”https://34.91.248.233//srv/htdocs/wp-content/uploads/2020/04/WhatsApp-Image-2020-04-11-at-5.46.39-PM-e1586608822877.jpeg”%5D%5B/bs-quote%5D
প্রতিবেদনটির মতামত সম্পূর্ণ লেখকের ব্যক্তিগত





