গরমের ছুটি মানেই নতুন জামা, ঘুরতে যাওয়া আর বাবা-মার সঙ্গে সময় কাটানো—এটাই তো স্বাভাবিক একটা ছোট্ট মেয়ের ছুটির প্ল্যান। কিন্তু কেউ যদি ছোটবেলায় বাবাকে হারিয়ে ফেলে, তাও এমন এক নির্মম কায়দায়, তা হলে সেই ছুটির গল্প আর কখনও আনন্দের হয় না। বলিউডের পরিচিত মুখ নিম্রত কৌরের শৈশবও এমনই এক গভীর দুঃখের স্মৃতিতে ঢাকা। আর সেই স্মৃতি আজও তাঁকে কাঁদায়, আজও তাঁকে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ায়।
যখনই কাশ্মীরে জঙ্গি হানা হয়, তখনই চুপিচুপি চোখ ভিজে যায় নিম্রতের। কারণ কাশ্মীর মানেই তাঁর কাছে বাবার রক্তাক্ত দেহের স্মৃতি। তাঁর শৈশবের সেই ভয়ানক দিনগুলো এখনও তাঁর মনে গেঁথে আছে। সময়ের সঙ্গে সবকিছু পাল্টালেও, ওই একটা ঘটনা তাঁর জীবনে যে ক্ষত তৈরি করেছিল, তা এখনও দগদগে। আর সেই দুঃখকথা তিনি শেয়ার করলেন সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায়, যা মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়।
নিম্রতের বাবা মেজর ভূপেন্দর সিং ছিলেন ভারতীয় সেনার গর্ব। তখন ছোট্ট নিম্রত। হঠাৎই কাশ্মীরের ভেরিনাগে পোস্টিং হয় তাঁর। বাবার পরিকল্পনা ছিল পুরো পরিবারকে নিয়ে যাওয়ার, কিন্তু কাশ্মীরের উত্তপ্ত পরিস্থিতির জন্য সেটা সম্ভব হয়নি। তাই পরিবারকে পাঞ্জাবে রেখে, একা চলে যান দায়িত্ব সামলাতে। নিম্রত জানাচ্ছেন, তখন দেশজুড়ে ছিল পাক-ভারত উত্তেজনা। সীমান্তে চলছিল অপারেশন সিঁদুর। আর ঠিক এই সময়েই ঘটে সেই ভয়ানক ঘটনা।
নিম্রতের সোশ্যাল মিডিয়ার লেখায় জানা যায়, সালটা ১৯৯৪। গরমের ছুটি পড়ে গেছে স্কুলে। ঠিক হয়েছিল, কাশ্মীরে গিয়ে বাবার সঙ্গে দেখা করবেন। কিন্তু তার আগেই আসে একটা খারাপ খবর—জঙ্গিরা ভূপেন্দর সিংকে অপহরণ করেছে। শর্ত দেওয়া হয়, গ্রেফতার হওয়া জঙ্গিদের ছেড়ে দিলে তবেই তাঁকে মুক্তি দেওয়া হবে। কিন্তু ভারতীয় সেনার এক প্রকৃত অফিসার হিসেবে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, দেশের নীতির সঙ্গে আপস নয়। ফলাফল আরও মর্মান্তিক।
আরও পড়ুনঃ Bangladesh : বাংলাদেশে বড়সড় রাজনৈতিক টানাপোড়ন, নিষিদ্ধ আওয়ামি লীগের চ্যালেঞ্জে চাপে ইউনূস সরকার!
এই ঘটনার সাতদিন পর আসে সেই খবর—নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে মেজর ভূপেন্দর সিংকে। তখন নিম্রত দিল্লিতে। বাবা আর ফিরলেন ঠিকই, তবে নিথর দেহ হয়ে, তিরঙ্গায় মোড়া কফিনে। নিম্রত লেখেন, “আজও সেই দৃশ্য ভুলতে পারি না। কাশ্মীর নামটা শুনলেই বুকটা কেঁপে ওঠে। বাবাকে শেষবার দেখতে যাওয়ার স্বপ্নটা আর কখনও পূরণ হয়নি।” বলিউডে সফল হলেও, বাবার স্মৃতি আর সেই রক্তাক্ত ঘটনা আজও নিম্রতের জীবনের সবচেয়ে গভীর ক্ষত।





