করোনা আবহে এপ্রিলের বেতন না পাওয়ার সম্ভাবনা ১২ কোটি লোকের, চাকরি হারাতে চলেছেন প্রচুর

মহামন্দার মুখে দেশীয় অর্থনীতি। করোনা ভাইরাসের জেরে বন্ধ হয়েছে উৎপাদন। থমকেছে উন্নয়নের চাকা। ইতিমধ্যেই হরিয়ানা সরকার ঘোষণা করেছে আগামী একবছরের মধ্যে নতুন কোন‌ও সরকারি চাকরির সম্ভাবনা নেই। মিলবেনা কোন‌ও সরকারি সুযোগ-সুবিধাও।

একটি সর্বভারতীয় বেসরকারী সংবাদসংস্থার রিপোর্ট বলছে এপ্রিল মাসে বেতন না পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ১২ কোটি শ্রমিকের। বিশেষত, অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকরা কোনও বেতন পাবেন না বলেই মনে করা হচ্ছে। দেশ জুড়ে লকডাউনের ফলে বিভিন্ন ক্ষেত্রের অসংগঠিত শ্রমিকরা আপাতত কাজহীন। তাঁদের কাজ বন্ধ সেই মার্চ মাস থেকে। এর ফলে পুরো এপ্রিল মাস জুড়ে কোন‌ও উ‍ৎপাদন না হওয়ায়, বেতন‌ও পাবেন না তাঁরা বলেই ধারণা করা হয়েছে ওই রিপোর্টে। রিপোর্ট বলছে, শুধু বেতন না পাওয়াই নয়, লকডাউনের পর কাজ যেতে পারে অসংখ্য মানুষের। করোনার জেরে হ‌ওয়া দ্বিতীয় দফার লকডাউনের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। তবে সূত্রের খবর, এত তাড়াতাড়ি উঠবে না লকডাউন। প্রধানমন্ত্রীও লকডাউন বাড়ানোর দিকেই ইঙ্গিত দিয়েছেন। সেক্ষেত্রে টাকা না পাওয়ার ও কাজ হারানোর মানুষের তালিকা ক্রমেই দীর্ঘতর হবে।

রিপোর্ট বলছে এপ্রিলের ২৭ তারিখ পর্যন্ত কাজ হারিয়েছেন ২০ থেকে ৩০ মিলিয়ন বা ২ থেকে ৩ কোটি মানুষ। এঁরা বেশিরভাগই অসংগঠিত শ্রমিক। রয়েছেন বেতনভোগী বহু কর্মীও। সব থেকে বেশি কাজ হারিয়েছেন সেলস, মার্কেটিং এবং ডেলিভারির মতো পেশার সঙ্গে যুক্ত মানুষরা। ট্র্যাভেল-ট্যুরিজম, হসপিটালিটি, শপিং মল, রেস্তোঁরা, নির্মাণশিল্পের মতো ক্ষেত্রগুলির ব্যবসা প্রায় বন্ধের মুখে। আর্থিক মন্দার জেরে আপাতত কর্মীদের বেতন বন্ধ করা ছাড়া উপায় নেই এঁদের বলে জানাচ্ছে ওই রিপোর্ট।

এছাড়াও রয়েছেন গাড়িশিল্প, ই-কমার্সের একাংশ, পোলট্রি, দুগ্ধশিল্পের একাধিক কর্মী, যাঁদের বেতনে প্রভাব পড়তে চলেছে করোনার। বেতন কাটা হতে পারে চুক্তিভিত্তিক কর্মী বা অস্থায়ী কর্মীদের। কর্মী ছাঁটাই শুরু করেছে অনলাইন ই-কমার্স সংস্থাগুলি। গত দু-এক সপ্তাহে ছাঁটাই হয়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ।

এছাড়াও কাজ হারাচ্ছেন সুইগি, জোম্যাটোর মত ফুড ডেলিভারি সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা। রিপোর্ট বলছে এঁদের ব্যবসার গ্রাফ ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ নিম্নমুখী। এর আগে, জনপ্রিয় হোটেল সংস্থা ওয়ো জানায়, তাঁদের প্রত্যেক কর্মীর বেতনের ২৫ শতাংশ কেটে নেওয়া হবে। এছাড়াও বেশ কিছু কর্মীকে ৪ মাসের ছুটিতে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দেওয়া সব রকম পরিষেবার মধ্যে কিছু থাকবে, বাকি দেওয়া হবে না। ৪ঠা মে থেকে এই ছুটি লাগু হতে চলেছে। বর্তমানে এই সংস্থায় প্রায় ১০ হাজার কর্মী রয়েছেন। ভ্রমণ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকায়, তাঁদের হোটেল ও হোমগুলি ক্ষতির মুখে পড়েছে। ফলে এই চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা। একই পরিস্থিতির শিকার অন লাইন ফুড ডেলিভারি সংস্থা সুইগিও। ৫০০ থেকে ৯০০ কর্মীকে ছাঁটাই করতে পারে তাঁরা, সূত্র মারফত এমন খবর‌ই পাওয়া গেছে। এছাড়াও প্রচুর ক্লাউড কিচেন বন্ধ করে দিচ্ছে এই সংস্থা বলে জানা গিয়েছে। সুইগি জানিয়েছে পরের মাস অর্থাৎ মে মাস থেকে ছাঁটাইয়ের কাজ শুরু করা হবে।

RELATED Articles

Leave a Comment