বিজেপি ঘনিষ্ঠদের ঋণমুকুবের অভিযোগ রাহুলের পাল্টা টুইট সীতারামনের

কেন্দ্রীয় সরকারের কাছের শিল্পপতিদের ঋণ মুকুব করছে রিজার্ভ ব্যাংক। ঋণখেলাপীদের তালিকা চেয়ে এবার সরকারের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ আনলেন রাহুল গান্ধী।

কংগ্রেসের অভিযোগ, বিজেপি ঘনিষ্ঠ হওয়ায় দেশের ৫০ জন বড় বড় ঋণখেলাপিদের প্রায় ৬৮ হাজার কোটি টাকা ঋণ মকুব করে দিয়েছে রিজার্ভ ব্যাংক। এমনই অভিযোগ আনেন কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি রাহুল গান্ধী। যার উত্তরে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ জানান এরকম অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। কারও কোনও ঋণ মকুব করা হয়নি। সবার থেকেই ঋণের টাকা উশুল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এইসব কথা বলে দেশবাসীকে ভুলপথে চালনা করার চেষ্টা করছে কংগ্রেস।

সাকেত গোখলে নামে এক RTI কর্মী দেশের শীর্ষ ৫০ জন ঋণখেলাপির নাম এবং তাঁদের বর্তমান ঋণের পরিমাণ জানতে চেয়ে একটি RTI ফাইল করেন। যার জবাবে শীর্ষ ব্যাংক জানান, “শীর্ষ ৫০ জন ঋণখেলাপির কাছে ৬৮ হাজার ৬০৭ কোটি টাকা পাওনা আছে ব্যাংকগুলির।” এই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন বিতর্কিত অলংকার ব্যবসায়ী মেহুল চোকসির। এরপর তালিকায় আরও সব খ্যাতনামা ব্যবসায়ীদের নাম রয়েছে। যেমন একদিকে আছে পতঞ্জলি ব্র্যান্ডের উজ্জ্বল নাম বাবা রামদেব এবং আচার্য বালাকৃষ্ণর সংস্থা রুচি সোয়া ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডও। রিজার্ভ ব্যাংকের দেওয়া এই তালিকা প্রকাশ্যে আসতেই সরকারকে অভিযোগের কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন কংগ্রেস। কেন্দ্রকে বিঁধে দলের প্রাক্তন সভাপতি রাহুল গান্ধী দাবি করেন, তিনি অনেক আগেই সরকারের কাছে শীর্ষ ঋণখেলাপিদের নামের একটি তালিকা চেয়েছিলেন। কিন্তু এই তালিকায় অনেক বিজেপি ঘনিষ্ঠদের নাম থাকায় সরকার তা দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেনি। রাহুল গান্ধীর সাথে সুর মিলিয়ে এদিন কংগ্রেসের অন্য নেতারাও সরকারের বিরুদ্ধে স্বজনপোষণ এবং ধনীদের স্বার্থরক্ষার অভিযোগ আনেন তাঁরা।

এরপরই কংগ্রেসের সেই অভিযোগের বিরুদ্ধে মুখ খোলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। কংগ্রেসকে জবাব দিতে মোট ১৩টি টুইট করেন তিনি। যার সারমর্ম হল, কারও কোনও ঋণ মুকুব করা হয়নি। যারা ইচ্ছাকৃতভাবে সামর্থ্য থাকা সত্বেও ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করছে না বা এক সংস্থার টাকা অন্য সংস্থায় সরিয়ে ফেলছে তাঁদের নিয়ে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপির তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে মাত্র। তাছাড়া রিজার্ভ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী ৪ বছর পর্যন্ত কেউ ঋণের টাকা না দিলে তাকেও ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপের তালিকায় ফেলতে হয়। এই তালিকায় নাম উঠেছে মানেই কিন্তু ঋণ মুকুব নয়। সরকার ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে পয়সা উশুল করার সাধ্যমতো চেষ্টা করছে। নির্মলার অভিযোগ, এই ঋণগুলির বেশিরভাগ দেওয়া হয়েছিল ২০০৬-০৮ সালের মধ্যে। অথচ, এখন দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করতে কংগ্রেস এই তালিকাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন।

RELATED Articles

Leave a Comment