Heart Attack: দেখতে সুস্থ, কিন্তু ভিতরে ভেতরে ভেঙে পড়ছে হৃদ্‌পিণ্ড! দ্রুত বাড়ছে হার্টের বয়স—ঠিক কোন অভ্যাসগুলি আপনাকে বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে?

জীবনযাত্রা যত দ্রুত বদলাচ্ছে, ততই নীরবে বদলে যাচ্ছে আমাদের শরীরের ভিতরের ছবি। বয়স কম হলেও অনেকেই আজকাল ক্লান্তিতে ঢলে পড়েন, নিঃশ্বাসে টান অনুভব করেন বা সামান্য চাপেই হৃদ্‌কম্পন বাড়তে দেখা যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শরীরের প্রকৃত বয়স যাই হোক, হৃদ্‌পিণ্ডের বয়স বাড়ছে তার থেকেও দ্রুত। ঝুঁকিটা তৈরি হচ্ছে নিত্যদিনের কিছু অভ্যাসের কারণেই, যা অনেক সময় আমরা নিজেরাও বুঝতে পারি না।

ডাক্তারেরা সতর্ক করছেন, অফিসের কাজের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রমেই বেড়েছে একটানা বসে কাজ করার প্রবণতা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা চেয়ারে বসে থাকা শরীরে মেদ জমার পাশাপাশি কোলেস্টেরল বাড়িয়ে দেয়। শুধু তাই নয়, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেল্‌থের গবেষণা বলছে—যাঁরা দিনের বড় অংশ ডেস্কে বসে কাটান, তাঁদের হৃদ্‌রোগের আশঙ্কা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। শারীরিক নড়াচড়া কম হওয়া, কাজের চাপে উদ্বেগ বাড়া এবং নিয়মিত ব্রেক না নেওয়ার ফলে শরীরের হরমোন ক্ষরণেও অস্থিরতা তৈরি হয়।

রোজকার আরেক বড় ভুল হচ্ছে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম। মোবাইল বা ল্যাপটপে চোখ আটকে থাকা যেন এখন স্বাভাবিক অভ্যাস। কিন্তু প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রল করার প্রভাব পড়ছে হৃদ্‌স্বাস্থ্যের উপর। গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম শিশু থেকে শুরু করে কমবয়সি সকলেরই স্থূলতার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে, যার হাত ধরেই অনেকে অজান্তেই ক্রমশ হৃদ্‌রোগের দিকে এগোচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন—রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে স্ক্রিনের আলো ঘুমের ছন্দও নষ্ট করে, আর সেই ঘুমের ঘাটতি পরোক্ষভাবে হার্টের বয়স বাড়াতে সাহায্য করে।

খাবারের অভ্যাসেও লুকিয়ে আছে বড় বিপদ। বাজারের প্রক্রিয়াজাত খাবার, জাঙ্ক ফুড, প্যাকেটজাত পানীয়—সব মিলিয়ে বাড়ছে ‘মেটাবলিক সিনড্রোম’-এর ঝুঁকি। শরীরে বেড়ে চলা চর্বি ও কোলেস্টেরল রক্তনালিতে চাপ সৃষ্টি করে হৃদ্‌পিণ্ডের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত করে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ধূমপান আরও ঘনিয়ে তোলে বিপদ। ধূমপান রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইড বাড়িয়ে ভাল কোলেস্টেরল কমিয়ে দেয়, ফলে রক্ত জমাট বেঁধে ধমনী সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

আরও পড়ুনঃ ধর্ম বাঁচাতে ভারতে আসা হাজারো মানুষ এখনও ‘নাগরিক’ নন! শীতকালীন অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি আবেদন করতে চলেছেন জগন্নাথ, নাগরিকত্ব না মিললে অনশন-আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিলেন সাংসদ!

সবশেষে বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা—কম ঘুম এবং স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো সমস্যা থাকলে হৃদ্‌পেশির স্বাভাবিক সঙ্কোচন-প্রসারণ ব্যাহত হয়। ঘুমের মধ্যে শ্বাসপ্রশ্বাস থেমে যাওয়ার ফলে রক্তে অক্সিজেন কমে যায়, যা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ কারণে চিকিৎসকেরা প্রতিদিন যথেষ্ট ঘুম, নড়াচড়া, সুষম খাবার এবং স্ক্রিন টাইম কমিয়ে জীবনযাত্রা পাল্টানোর পরামর্শ দিচ্ছেন, যাতে হার্টের প্রকৃত বয়স আর শরীরের বয়সের ব্যবধান না বাড়ে।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles