গত ফেব্রুয়ারিতে ভারতীয় সংগঠনের তরফে রাষ্ট্রপুঞ্জে দাবী তোলা হয় যাতে পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। ভারতের এই প্রতিবেশী দেশে প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে ধর্মীয় হিংসার ঘটনা। সে অভিযোগ যে কোনও ভাবেই মিথ্যে নয়, তা প্রমাণিত হল সাম্প্রতিক এক ঘটনায়। গতকাল, বুধবার পাকিস্তানের করাচির কোরাঙ্গি এলাকায় এক হিন্দু পুরোহিতের বাড়িতে হামলা চালায় দুষ্কৃতীর দল। এতে আক্রান্ত হন পুরোহিত। ভাঙচুর চালানো হয় মন্দিরেও।
জানা গিয়েছে, ওই পুরোহিতের বাড়িতে হামলা চালায় একদল দুষ্কৃতী। সেই সঙ্গে মাতা মেরির মন্দিরেও ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ। পাকিস্তানের প্রশাসনের দাবী, এই ঘটনায় উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পাকিস্তান পুলিশ এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করেনি।
ওই এলাকার এক হিন্দু বাসিন্দা সঞ্জীব সাময়িক সংবাদপত্রের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জানান যে ওইদিন ৬ থেকে ৮ জন দুষ্কৃতী এসে রাতের অন্ধকারে হাজির হয়। সেই সময়ই মন্দিরে ভাঙচুর চালাতে থাকে তারা।
পাকিস্তানে শিখ ও হিন্দুদের উপর অত্যাচারের ঘটনা কারোরই অজানা কিছু নয়। ২০১০ সালে পেশোওয়ারের বাসিন্দা যশপাল সিং নামের এক ব্যক্তিকে অপহরণ করে গলা কেটে খুন করে মৌলবাদীরা। ২০১৬ সালে খাইবার পাখতুনখোয়ার প্রাদেশিক আইনসভার সদস্যকে গুলি করে খুন করা হয়। এমন নানান ঘটনা নিয়ে বারবার সমালোচনার ঝড় উঠলেও তা বন্ধ হয়।
পাকিস্তানে একাধিক সময় একাধিক বার নানা হিন্দু মন্দিরে হামলা ও ভাঙচুরের খবর উঠে এসেছে। প্রতি বছর নানান হিন্দু ও খ্রিস্টান ধর্মের নাবালিকাকে অপহরণ করে জোর করে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করা হয়। এরপর মুসলিম পুরুষদের সঙ্গে তাদের বিয়ে দেওয়া হয় জোরপূর্বক।
অভিযোগ, এই সমস্ত ঘটনাই প্রশাসনের অজানা নয়। ইমরান খান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এমন একাধিক ঘটনার খবর শোনা গিয়েছে। বর্তমানে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন শাহবাজ শরিফ। মনে করা হয়েছিল ইমরানের পর হয়ত পাকিস্তানে ধর্মীয় হিংসার ঘটনা কমবে, কিন্তু তা যে হয়নি, তা এই ঘটনায় বেশ স্পষ্ট।





