রাষ্ট্রসংঘে এবার ফের একবার পাকিস্তানকে তোপ দাগল ভারত। গতকাল, বুধবার প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে তুলোধোনা করে ভারতীয় বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেন যে “যারা ওসামা বিন লাদেনের মতো জেহাদিকে অতিথি করে তাদের মুখে নীতিকথা মানায় না”। আন্তর্জাতিক মঞ্চে এভাবেই ভারত কাশ্মীর নিয়ে খোঁচা দেওয়ার জবাব দিল ইসলামাবাদকে।
গতকাল, বুধবার নিরাপত্তা পরিষদে কাশ্মীর প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো। ভারতকে তোপ দেগে তিনি বলেন, “আপনারা যদি বহুত্ববাদের সাফল্য দেখতে চান, তাহলে কাশ্মীরে নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব লাগু করুন। প্রমাণ করুন, আপনাদের সভাপতিত্বে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ আমাদের অঞ্চলে শান্তি ফেরাতে পারবে”।
পাক বিদেশমন্ত্রীর এহেন মন্তব্যের পালটা ভারতীয় বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর বলেন, “যারা ওসামা বিন লাদেনের মতো জেহাদিকে অতিথি করে তাদের মুখে নীতিকথা মানায় না”।
তিনি আরও বলেন, “ভারত বরাবর বহুত্ববাদে এবং সংস্কারের পক্ষে। কিন্তু যারা পড়শি দেশের সংসদে হামলা চালায়, তাদের মুখে উপদেশ মানায় না”। বলে রাখি, গত ১ ডিসেম্বরই এক মাসের জন্য নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতিত্বের দায়িত্ব এসেছে ভারতের হাতে।
প্রসঙ্গত, ২০০১ সালে নয়াদিল্লির সংসদ ভবনে হামলা চালায় পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিরা। লস্কর-ই-তৈবা ও জইশ-ই-মহম্মদের জেহাদিদের হামলায় মৃত্যু হয় ন’জনের। এদিন সেই প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন জয়শঙ্কর।
উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বর মাসে আন্তর্জাতিক মঞ্চটিতে কাশ্মীর প্রসঙ্গ টেনে নয়াদিল্লির উপর চাপ তৈরি করার চেষ্টা করেন পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভায় কাশ্মীর নিয়ে সরব হন তিনি। শাহবাজ শরিফ দাবী করেন যে ভারতের ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত অবৈধ ও একতরফা। এর পাল্টা দিয়ে প্রতিবেশী দেশকে ‘সন্ত্রাসবাদের মদতদাতা’ বলে তোপ দাগে ভারত। দিল্লি কার্যত বার্তা দিয়ে স্পষ্ট করে দেয় যে ইট মারলে পাটকেলটা খাওয়ার সাহস রাখতেই হবে।





