একে করোনায় রক্ষা নেই, এর উপর এসে জুটল এর এক ভাইরাস। করোনা সংক্রমণ কমে গেলেও তা এখনও পৃথিবী থেকে বিদায় নেয় নি। গত দু’বছরেরও বেশি সময় ধরে করোনার জেরে গোটা বিশ্ব সন্ত্রস্ত। চীনে নতুন করে এই ভাইরাস মাথাচাড়া দিয়েছে। গত আড়াই বছরে এই ভাইরাসের জেরে লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।
আর এরই মধ্যে চিন্তা বাড়াতে হাজির আরও এক মারণ ভাইরাস। সম্প্রতি, এক প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে যে ব্রিটেনে খোঁজ মিলেছে Monkeypox নামের এক ভাইরাসের। এই ভাইরাস মূলত ইঁদুরের শরীর থেকে ছড়িয়ে পড়ে বলে জানা গিয়েছে। এও খবর মিলেছে যে সম্প্রতি যে ব্যক্তির শরীরে এই ভাইরাসের উপস্থিতি মিলেছে, তিনি সম্প্রতি নাইজেরিয়া থেকে ফিরেছিলেন। তাই মনে করা হচ্ছে যে সেখান থেকেই নতুন এই Monkeypox ভাইরাস তাঁর শরীরে প্রবেশ করেছে।
নতুন এই ভাইরাস সংক্রমণের খোঁজ পাওয়ার পরই এই নিয়ে ব্রিটেনের হেলথ প্রোটেকশন এজেন্সির তরফে সতর্ক করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, এই Monkeypox একটি বিরল ভাইরাস। এই ভাইরাস সহজে ছড়ায় না। সংস্থার তরফে আরও বলা হয়েছে যে এই ভাইরাস নিয়ে একটি গবেষণা করা হয়েছে। এই ভাইরাসের উপসর্গগুলিও সামান্য বলেই জানা গিয়েছে।
জানা গিয়েছে যে এই ভাইরাসে যদি কেউ আক্রান্ত হন, তাহলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ফের সুস্থ হয়ে উঠবেন রোগী। তবে শরীরে যদি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে, তাহলে এই ভাইরাস বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। গত বছরের জুলাই মাসে আমেরিকার টেক্সাসে এক ব্যক্তির শরীরে এই ভাইরাসের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
এই প্রসঙ্গে ব্রিটেনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, এই Monkeypox Virus-এর প্রথম সংক্রমণের খবর পাওয়ার পর থেকেই অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে। তাদের তরফে এও জানানো হয়েছে যে বর্তমানে ওই সংক্রমিত ব্যক্তির চিকিৎসা চলছে হাসপাতালে। এও জানা গিয়েছে যে শারীরিকভাবে তিনি আগের তুলনায় অনেকটাই ভালো রয়েছেন। ওই ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খোঁজ চলছে বলে জানা গিয়েছে।
এই Monkeypox ভাইরাস আসলে কী?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই Monkeypox হল এক ধরণের বিরল প্রজাতির ভাইরাস। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হল রোগীর মধ্যে ফ্লু-এর লক্ষণ দেখা যায়। কারোর যদি আবার অবস্থার অবনতি হয়, তাহলে নিউমোনিয়ার উপসর্গ দেখা যেতে পারে। এই ভাইরাসের জেরে মুখে ও গোটা শরীরে লাল ফুসকুড়ি দেখা যায়।





