এয়ার স্ট্রাইক করেছে ভারত। ফের হামলা চালিয়েছে ভারতীয় বায়ু সেনা। লাইন অব কন্ট্রোল পেরিয়ে করাচির আকাশে প্রবেশ করেছে ভারতীয় বোমারু বিমান! মঙ্গলবার রাতে এমন দাবিতেই হইচই পড়ে যায় গোটা পাকিস্তান জুড়ে। গোটা ঘটনায় ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে বালাকোটে ভারতীয় বায়ু সেনার এয়ার স্ট্রাইকের স্মৃতি ফিরে আসে পাক নেটিজেনদের মনে। সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টেও ২০১৯ এর বালাকোটের প্রসঙ্গ উঠে আসে।
Extraordinary air activity on #Pak_India border has been observed. #Pakistan security forces are alert.
— Tariq Mahmood Malik (@TM_Journalist) June 9, 2020
২০১৯ সালের ২৬শে ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বালাকোটে জইশ-ই-মহম্মদের ডেরায় আকাশপথে হামলা চালায় বায়ুসেনা (IAF)। পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলার জবাব দিতেই ওই স্ট্রাইক চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছিল নরেন্দ্র মোদী সরকার। উদ্দেশ্য ছিল জঙ্গি নিধন।
Dear @IndiainPakistan, rumors are rife about Indian Air Force incursions into Pakistan-administered Kashmir and the Sindh-Rajasthan sector. Recommend you put out a statement to clarify. Also recommend that everybody chill and enjoy the week.
— Wajahat S. Khan (@WajSKhan) June 9, 2020
কিন্তু কালকের সঙ্গে এই ঘটনার কি সম্পর্ক?
কাল হঠাৎই অন্ধকারে ডুবে যায় করাচি। এতে আতঙ্ক আরো জোরদার হয় যে ভারত বাহিনী হানা দিয়েছে। প্রসঙ্গত, ২০১৯-এ বালাকোটে ভারতীয় বায়ুসেনার হানার সময় গোটা করাচির বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল, ভারতীয় বিমান যাতে করাচিতে হামলা না চালায়। গতরাতে করাচির বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার ঘটনায় তাই বালাকোট-আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় বহু পাক ইউজারের পোস্ট থেকে জানা যায়, পাক সীমান্তে ভারতীয় বায়ুসেনার বিমান উড়তে দেখা গিয়েছে। যা থেকেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পাকিস্তানও সীমান্তে নিরাপত্তা বাড়িয়েছে বলে দাবি সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টে।
যদিও পাকিস্তান সেনা বা বায়ুসেনার তরফে কোনও বিবৃতি আসেনি। ভারতের পক্ষ থেকেও এই ধরনের কোনও তথ্য মেলেনি।
https://twitter.com/salmanzit/status/1270452975262208004?s=20
২০১৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ভোররাত সাড়ে তিনটের সময় ওয়েস্টার্ন ও সেন্ট্রাল এয়ার কম্যান্ডের একাধিক বায়ুসেনা ঘাঁটি থেকে একসঙ্গে ১২টি মিরাজ-২০০০ ভারতীয় বিমান উড়ে গিয়েছিল। একই সঙ্গে দিল্লি থেকে আকাশে উড়ে যায় এয়ারবোর্ন আর্লি ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম বিমান। মিরাজ-২০০০ বিমানগুলিকে নিখুঁত লক্ষ্যে পৌঁছে দিয়েছিল ওই বিমানটি। পাশাপাশি আগ্রা থেকে আকাশেই যুদ্ধবিমানে জ্বালানি ভরে দেওয়ার জন্য আইএল-৭৮ নামে আরও একটি বিমান উড়ে যায়। তবে ওই দুটো বিমান নিয়ন্ত্রণ রেখা পার করেনি। তারা পাকিস্তানের তরফে কোনও জবাব দেওয়া হল কিনা, সেদিকে নজর রাখছিল। গোটা অভিযানে ২০ মিনিটের একটু বেশি সময় লাগলেও সামরিক সূত্রে জানা গিয়েছিল, মাত্র দেড় মিনিটেই হানা শেষ হয়ে যায়। পাকিস্তানের এফ-১৬ বিমান চেষ্টা করলেও ১২টি মিরাজের সামনে আসার ঝুঁকি শেষপর্যন্ত নেয়নি। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছিল, গোটা অভিযানের পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল।





