আগামী ১২ তারিখ রাশিয়া গড়বে নতুন ইতিহাস, বাজারে আসতে চলেছে বিশ্বের প্রথম করোনার টিকা

আর মাত্র দু’দিনের অপেক্ষা তারপরই রাশিয়ার করোনা টিকা আসবে বাজারে। রাশিয়ার গামালেই ইনস্টিটিউট অব এপিডেমিওলজি অ্যান্ড মাইক্রোবায়োলজি যে প্রতিষেধকটি তৈরি করেছেন, এবার তা জনসাধারণের জন্য নিয়ে আসতে চলেছে রুশ প্রশাসন।

সারা বিশ্বে ইতিমধ্যেই করোনা রোগীর সংখ্যা ১ কোটি ৯৮ লক্ষ অতিক্রম করেছে। এছাড়া এই মারণ ভাইরাসের কবলে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় সাড়ে ৭ লক্ষ মানুষ। ভারতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৬৪ হাজারেরও বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে করোনা প্রতিষেধকের প্রয়োজন বেড়েই চলেছে। এমন সময়ই রুশ সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর মিলল, আগামী ১২ই অগাস্ট বাজারে আসবে বিশ্বের প্রথম করোনার প্রতিষেধক। অন্যদিকে ইতিমধ্যেই বিশ্বের প্রথম দেশ হিসাবে করোনা প্রতিষেধকের হিউম্যান ট্রায়াল শেষ করে ফেলেছে রাশিয়া।

তবে এত শীঘ্র হিউম্যান ট্রায়াল শেষ করে ফেলার কারণে বিভিন্ন গবেষকরা রাশিয়ার তৈরি এই প্রতিষেধকের কার্যকারিতা ও সুরক্ষার বিষয় সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। যার মধ্যে একজন হলেন মার্কিন অ্যালার্জি এবং সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডঃ অ্যান্থনি ফৌসি। তাঁর সন্দেহের ভিত্তিতেই গত মঙ্গলবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-র মুখপাত্র খ্রিশ্চিয়ান লিন্ডমিয়ারও রাশিয়ার প্রতিষেধক নির্মাণকারী সংস্থাকে জনগণের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে টিকা তৈরির ক্ষেত্রে সঠিক পদ্ধতি ও সুরক্ষা বিষয়ক সমস্ত নিয়ম-কানুন মেনে চলার কথা জানিয়েছেন।

অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, মোট ১,৬০০ জন স্বেচ্ছাসেবকের উপর এই টিকা প্রয়োগ করা হয়েছে। যেখানে দেখা গেছে প্রত্যেকের শরীরেই এই টিকা করোনার বিরুদ্ধে প্রতিরোধক ক্ষমতা গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া তাঁদের শরীরে এর কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও দেখা দেয়নি।

গত সপ্তাহে রুশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী মিখাইল মুরশকো জানান, সামনের মাসেই বাজারে টিকা ছাড়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে। জোর কদমে চলছে টিকা উৎপাদনের কাজ। এ বছরের মধ্যেই সাড়ে ৪ কোটি ডোজ তৈরি করতে সক্ষম রাশিয়া। রুশ সংবাদমাধ্যমে দেশের শিল্পমন্ত্রী ডেনিস মন্তুরভ জানিয়েছেন, আগামী সেপ্টেম্বরে টিকার উৎপাদন আরও বাড়বে। তবে প্রতিষেধক উৎপাদন করা হলেও এটির তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালও জারি থাকবে। তবে এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে রাশিয়ার তৈরি এই টিকা বাজারে এলে সংক্রমণে কিছুটা হলেও লাগাম লাগানো সম্ভব হবে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

RELATED Articles

Leave a Comment