করোনা সংঘাত ক্রমেই জোরালো হচ্ছে আমেরিকা ও চীনের মধ্যে। এবার ইচ্ছাকৃতভাবে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে চীনের কাছে বড়সড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দাবি করার কথা ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “করোনা ভাইরাসের জন্য চীনকে মাশুল গুণতে হবে৷ আর চীনকে উচিত শিক্ষা দিতে একেবারে তৈরি মার্কিন প্রাশসন৷ তাঁদের বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আমরা জার্মানির থেকেও অনেক সহজ পথে সেই ব্যবস্থা করব। গোড়াতেই করোনা সংক্রমণ আটকাতে পারত বেজিং। তবে তাঁরা সেটা করেনি। চীনের গাফিলতির জন্যই গোটা বিশ্বে এই জীবাণু ছড়িয়ে পড়েছে। জার্মানি যে পরিমাণ ক্ষতিপূরণ চেয়েছে, তার থেকেও অনেক বেশি ক্ষতিপূরণ চাওয়ার কথা ভাবছে মার্কিন প্রশাসন৷ তবে এখনও তেমন কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি৷”
শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ হিসেবে প্রথম স্থান অর্জনের লক্ষ্যে গত বছর থেকেই চীন ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধ চলছে। একে অপরের পণ্যে শুল্ক চাপিয়েছে দুই দেশই। তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে খানিকটা সমঝোতার পথে এগিয়েছিল ওয়াশিংটন ও বেজিং। কিন্তু করোনা ভাইরাস এসে সমঝোতায় চির ধরায়।
তাই ফের সংঘাত শুরু হয়েছে দু’দেশের মধ্যে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, চীনের তাঁবেদারি করার অভিযোগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে দেওয়া সাহায্যও বন্ধ করে দেয় আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিযোগ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হু করোনা সম্পর্কে আমেরিকাকে ভুল পরামর্শ দিয়েছিল। চীন যেভাবে মৃত ও আক্রান্তের সংখ্যা আড়াল করেছে, তাতেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হাত আছে বলে মত আমেরিকার। যদিও এসব বিবাদ ভুলে আমেরিকাকে নিজেদের সাহায্য বন্ধের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে অনুরোধ করেছে হু। কিন্তু তা শোনার পাত্র নন ট্রাম্প।
উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই চীনের কাছে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে জার্মানি এবং এই খবর পরিবেশন করেছে একটি জার্মানির সংবাদমাধ্যম। পর্যটন, উৎপাদন শিল্প-সহ বিভিন্ন খাতে করোনার জেরে হওয়া লোকসানের খতিয়ান তুলে ধরে চীনের বিরুদ্ধে ১৩০ বিলিয়ন পাউন্ডের ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে সেখানে। কড়া ভাষায় বেজিংয়ের সমালোচনা করে ওই প্রবন্ধে বলা হয়েছে, গোটা বিশ্বের কাছে ইচ্ছাকৃতভাবে করোনা সংক্রান্ত তথ্য গোপন করেছে শি জিনপিংয়ের সরকার। সঠিক সময়ে বেজিং সমস্ত তথ্য প্রকাশ করলে এই মহামারিকে ঠেকানো যেত।





