ট্রায়াল শুরু মর্ডানার ভ্যাকসিনের, বছর শেষেই মিলবে বাজারে, দাবি মার্কিন ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থার

গোটা বিশ্ব এখন প্রবল করোনা জ্বরে আক্রান্ত। গত একমাসে আক্রান্তের সংখ্যা এক ধাপে অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। ভারতের অবস্থাও তথৈবচ। গোটা পৃথিবী এখন ভয়াল ভাইরাসের প্রতিষেধক আবিষ্কার হওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনছে।

ইতিমধ্যেই আশার আলো দেখিয়েছে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন। জানা গিয়েছে প্রথম রাউন্ডের ট্রায়াল সফল হয়েছে। এবার দুই মার্কিন সংস্থা মর্ডানা ও ফাইসার আশার আলো দেখালো। তাঁদের দাবি, চলতি বছরের শেষেই তাঁদের তৈরি ভ্যাকসিন নিতে পারবেন সাধারণ মানুষ।

বিশ্বে করোনা আক্রান্ত দেশের তালিকায় এখনও প্রথম স্থান দখল করে রয়েছে আমেরিকা। প্রকোপ কমার লক্ষণ তো নেইই বরং দিনে দিনে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে বাড়তে বর্তমানে আমেরিকা আক্রান্তের সংখ্যা ৪৪ লক্ষ ছাড়িয়েছে। এখনও পর্যন্ত মারণ ভাইরাস প্রাণ কেড়েছে দেড় লক্ষেরও বেশি মানুষের। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা রবার্ট ও’ ব্রায়েন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন।

এরই মধ্যে এই দুই মার্কিন ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা আমেরিকা বাসীদের প্রাণে স্বস্তি জুগিয়েছে। জানা গিয়েছে অ্যাস্ট্রাজেনেকার মত মডার্না ফার্মাও পৌঁছে গিয়েছে করোনা ভ্যাকসিন তৈরির শেষ ধাপে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের উপর এই ভ্যাকসিনের চূড়ান্ত পরীক্ষা শুরু হয়েছে। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অফ হেলথের সঙ্গে হাত মিলিয়ে মডার্না শুরু করেছে এই পরীক্ষা।

এই ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়েছে গবেষণাগারে কৃত্রিমভাবে তৈরি এমআরএনএ দিয়ে। এমআরএনএ হল একটি জেনেটিক কোড, যার নির্দেশে কোষগুলি প্রোটিন তৈরি করে। এই প্রোটিন করোনা জীবাণুর প্রোটিনের মত দেখতে, করোনা জীবাণুর বিরুদ্ধে শরীরে প্রতিরোধী ক্ষমতা তৈরি করছে তারা।

মোট স্বেচ্ছাসেবীর একাংশের শরীরে এই ভ্যাকসিন সরাসরি প্রয়োগ করা হচ্ছে এবং বাকিদের শরীরে প্রয়োগ করা হচ্ছে নিষ্ক্রিয় একটি ওষুধ। দুটি ডোজ দেওয়ার পর তাঁরা দেখবেন, কাদের শরীরে কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিল।

মার্কিন ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা মর্ডানা গত মার্চ মাস থেকেই এই কাজে লিপ্ত রয়েছে। ১৬ ই মার্চ তারা দাবি করে যে তাদের করোনা ভ্যাকসিন আবিষ্কার করার কাজ শুরু হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে মোট ৪৫ জন স্বেচ্ছাসেবককে ‘ভ্যাকসিন’-এর ডবল ডোজ দেওয়া হয়। সংস্থাটি দাবি করছে, প্রথম পর্যায়ের সেই ট্রায়াল সফল হয়েছে। জানা গিয়েছে এই ভ্যাকসিন দেওয়ার পর স্বেচ্ছাসেবকদের করো না প্রতিরোধের ক্ষমতা বেড়েছে।

অপর মার্কিন সংস্থা ফাইজারও ‘ভ্যাকসিন’ তৈরির কাজে অনেকটাই এগিয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে তারা মোটা অংকের চুক্তিও করে ফেলেছে এই ভ্যাকসিন নিয়ে। ব্রাজিলেও জোরকদমে চলছে ভ্যাকসিন নিয়ে গবেষণা।

ভারতও করোনা ভ্যাকসিনের গবেষণায় পিছিয়ে নেই। ভারতেও সেরাম ইনস্টিটিউট শীঘ্রই অক্সফোর্ডের তৈরি ভ্যাকসিনের পরীক্ষা শুরু করবে। আশা করা যাচ্ছে, চলতি বছরের শেষেই বাজারে চলে আসবে অক্সফোর্ডের করোনা ভ্যাকসিনও।

RELATED Articles

Leave a Comment