২০১৯ এ দাঁড়িয়েই এবারে ভবিষ্যৎ ভ্রমণ সম্ভব৷ ২০১৯ ছেড়ে ২০৯১ এ পৃথিবী কি অবস্থায় থাকতে চলেছে এবারে তা চট করেই ঘুরে আসতে পারবেন আপনারা। কেমনই বা হবে ২০৯১ এর পরিবেশ, সমাজ? সবই জেনে নিতে পারবেন মুহূর্তে। আর এই অভিনব সুযোগ আপনাদের করে দিচ্ছে দমদম পার্ক তরুণ সংঘ পূজো কমিটি৷

দমদম পার্ক তরুণ সংঘ-এর পূজোটি এবারে পা দিতে চলেছে ৩৪ বছরে। থিম পূজো হিসেবে দমদম পার্ক তরুণ সংঘ উত্তর কলকাতার সবচেয়ে জনপ্রিয় পূজোগুলোর মধ্যে একটি। এবারে দমদম পার্ক তরুণ সংঘের তরফে যে থিম তুলে ধরা হয়েছে তার পটভূমিতে রয়েছে ২০৯১ সালের সমাজ এবং পরিবেশ৷ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কীভাবে পরিবেশের এবং মানবতার অবক্ষয় হয়ে চলেছে তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখাতেই এবারে তাদের অভিনব থিম ‘২০১৯ এ দাঁড়িয়ে ২০৯১ এ আমরা’।
মন্ডপ এবং প্রতিমা শিল্পী রিন্টু দাসের ভাবনায় মন্ডপে ফুটে উঠেছে ২০৯১ সালে কলকাতার এক চিত্র। মন্ডপের শুরুতেই দেখা যাচ্ছে যে, আপনারা ২০১৯ থেকে এসে পরেছেন ২০৯১ এ। চারিদিকে নানান রঙের বৃহৎ বৃহৎ সমস্ত অ্যাপার্টম্যান্ট৷ কংক্রিটের জঙ্গলে চতুর্দিক এমন ভাবে ভরে উঠেছে যে একফালি সবুজ ঘাস নজরে পরাও দায় হয়ে উঠেছে। নেই কোনো গাছপালা, কিংবা সবুজের সমারোহ৷ এমতাবস্থায় কোনোভাবে অতি কষ্টে এক তিনশো বছরের পুরনো ঠাকুর দালানে হয়ে চলেছে দেবী দুর্গার আরাধনা৷ তবে ২০১৯ এ দাঁড়িয়ে বাসিন্দারা এটিও নিশ্চিত নন যে আগামী বছর এই ঠাকুরদালানটিই আদৌ থাকবে কীনা? নাকী সেখানেও ঠাকুরদালানের স্থানে গজিয়ে উঠবে কংক্রিটের জঙ্গল!! চারিদিক থেকে অদৃশ্য হয়েছে সবুজ এমতাবস্থায় অক্সিজেন নিয়েও পরেছে টানাটানি। দমদম পার্ক তরুণ সংঘ পূজো কমিটি বেশ ভালো মতোই বুঝিয়েছে সেসময়ের অক্সিজেনের অভাব৷ তাঁরা দেখিয়েছেন যে, ২০৯১ এ দাঁড়িয়ে মানুষকে কিনে নিতে হচ্ছে অক্সিজেন। অনলাইনে চলছে অক্সিজেন সিলিন্ডার বিক্রয়ের নানান অফার৷
দমদম পার্ক তরুণ সংঘ পূজো কমিটির তরফে জানানো হয় যে, মানুষকে পরিবেশ নিয়ে সচেতন করতেই তাদের এই প্রয়াস। তবে শুধু পরিবেশের অবক্ষয়ই নয় তাদের থিমে ধরা পরেছে মানুষের মুল্যবোধের অবক্ষয়। দেখা যাচ্ছে যে, সেসময় আর একটিও একান্নবর্তী পরিবার নেই৷ সবাই যে যার মতো তাদের নিউক্লিয়ার ফ্যামিলি নিয়ে ব্যাস্ত৷ আত্মীয়দের মাঝে যোগাযোগ পর্ব প্রায় সামাধা হয়ে গিয়েছে৷ ২০৯১ এ আমরা যে এমনই একটি পৃথিবী আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে উপহার দিতে চলেছি তা বেশ ভালো মতোই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে দমদম পার্ক তরুণ সংঘ।
তবে অন্ধকারের শেষে থাকে এক নতুন শুরুর আলো। তাই মন্ডপের একদম শেষে দমদম পার্ক তরুণ সংঘের এক অভিনব ভাবনায় দেখা গিয়েছে যে আইসিইউ তে ভর্তি রয়েছে একটি সবুজ গাছ। তার দেহে আর বিশেষ প্রাণ বাকী না থাকলেও সেই গাছ থেকেই সৃষ্টি হচ্ছে আরও একটি সবুজ চারা গাছের৷ আর সেখান থেকেই পুরনো সব ধ্বংস হয়ে শুরু হবে নতুনের। ফুটে উঠবে নতুনের আলো। দমদম পার্ক তরুণ সংঘের বার্তা যে আমরা এখন থেকে সচেতন হলেই এই আশার আলো জীবিত হয়ে থাকবে৷ যার দ্বারা আমরা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মদের উপহার দিতে পারবো এক সুন্দর দূষণ মুক্ত পৃথিবীর৷
দমদম পার্ক তরুণ সংঘের প্রতিমাতেও এবার রয়েছে অভিনবত্বের ছোঁয়া। ওড়িশা থেকে আনা হয়েছে পাথর কেটে তৈরী করা এই বিশেষ প্রতিমা। আর তাতে বনেদিয়ানার গন্ধ ফোটাতে রোজদিন সেই প্রতিমার গায়ে লাগানো হচ্ছে প্রচুর পরিমাণে ঘি৷ সঙ্গে পূর্বেকার একান্নবর্তী পরিবারের একসঙ্গে উৎসব পালনের যে আমেজ তা ফুটিয়ে তুলতে ব্যবহার করা হচ্ছে ধূপ ধুনোর সুন্দর সুরভী।
সবমিলিয়ে এ যে সত্যিই ২০১৯ এ দাঁড়িয়ে ২০৯১ এর পরিবেশ৷ আর সেই ২০৯১ এ দাঁড়িয়ে পুরয়ান পুরোনো দিনের আমেজ৷ গতকাল সন্ধ্যেয় দমদম পার্ক তরুণ সংঘের পূজোটির শুভ উদ্বোধন করেন দমকল মন্ত্রী সুজিত বোস। এরপরই ২০১৯ এ দাঁড়িয়ে ২০৯১ এর দরজা খুলে দেওয়া হয় সমস্ত দর্শনার্থীদের জন্য৷





“আগে হিন্দু, তারপর বাঙালি…যে রক্ষা আমাদের রক্ষা করবে, আমি তাদের দলে” “আমি হিন্দুস্থান চাই” বাংলায় পদ্মফুলের উত্থানেই খুশি অভিজিৎ ভট্টাচার্য! বিজেপির সাফল্যের পর খুললেন মুখ! গায়কের মন্তব্যে তোলপাড় নেটদুনিয়া!