সিপাহী বিদ্রোহের জের, পুলিশ ট্রেনিং স্কুলের আরও ২৫ জন কর্মীকে বদলির চিঠি ধরাল রাজ্য সরকার

প্রথমে সংখ্যাটা আটকে ছিল তেরোর কোঠায়, বৃহস্পতিবার ওই সংখ্যাটাই বেড়ে দাঁড়াল আটত্রিশে। পুলিশ ট্রেনিং স্কুল থেকে বদলি চিঠি ধরানো হল আরো ২৫ জন পুলিশকর্মীকে। ‌ এঁদের বিরুদ্ধে গত ১৯ মে রাতে কলকাতা পুলিশের কমব্যাট ফোর্সের ডেপুটি কমিশনার নভেন্দ্র সিং পলকে হেনস্থা করার অভিযোগ রয়েছে বলে অভিযোগ। করোনা কবলিত এলাকায় ডিউটি দেওয়া হচ্ছে এবং কোনরকম সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই সেই সব জায়গায় পাঠানো হচ্ছে এই অভিযোগে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন পুলিশ ট্রেনিং স্কুলের পুলিশকর্মীরা। ডিসি কমব্যাট ফোর্সকে রীতিমতো রে রে করে তাড়া করেন পুলিশকর্মীরা। অন্যান্য আধিকারিকদের নিয়ে রীতিমতো রাস্তা দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে বাঁচেন নভেন্দ্র সিং পল। এর পর পুলিশ ট্রেনিং স্কুলের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন পুলিশকর্মীরা।

তারই মধ্যে পরের দিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসেন পুলিশ ট্রেনিং স্কুল চত্বরে। তখনও সেখানে চলছিল বিক্ষোভ। মুখ্যমন্ত্রীকে দেখে নিজেদের ক্ষোভ উগরে দেন পুলিশকর্মীরা। তাঁদের বিপর্যয় মোকাবিলায় ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানিয়ে মমতা বলেন, আমি নিজে আসব আপনাদের সঙ্গে কথা বলতে। সেই সময় রাজ্যে সবেমাত্র আছড়ে পড়েছিল আমফান।

কথা বলবেন বলে কথা দিয়ে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তাঁর কথার বদলে পুলিশ ট্রেনিং স্কুলের পৌঁছালো বদলির চিঠি। প্রথম দফায় ১৩ জন পুলিশকর্মীকে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার বদলির চিঠি পৌঁছালো আরো ২৫ জনের হাতে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় পোস্টিং হয়েছে এই পুলিশকর্মীদের।এদের মধ্যে RAF ও DMG-র কয়েকজন সদস্যও রয়েছেন।

আনুষ্ঠানিকভাবে যতই বলা হোক যে এই বদলিগুলো রুটিনমাফিক কিন্তু একথা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে সিপাহী বিদ্রোহ ঘটানোর জন্য রাজ্য সরকার যথেষ্ট ক্ষুব্ধ এই পুলিশ কর্মীদের ওপর। তাই ফলস্বরূপ বিভিন্ন জেলায় আচমকা পোস্টিং দিয়ে দেওয়া হয়েছে তাঁদের। সরকারের এই একনায়কতন্ত্রী পদক্ষেপের কড়া নিন্দা করছেন বিরোধী শিবির থেকে শুরু করে ওয়াকিবহাল মহল।

RELATED Articles

Leave a Comment