লকডাউনের জেরে ভারতের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গত মার্চ মাস থেকে বন্ধ। কিন্তু পঠনপাঠন যাতে ব্যহত না হয় সেইজন্য অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শুরু হয় অনলাইন ক্লাস। মোবাইল ফোন খারাপ হয়ে যাওয়ায় অনলাইন ক্লাস না করতে পারার কারণেই এবার আত্মঘাতী হল হাওড়ার এক কিশোরী। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে দশম শ্রেণীর ছাত্রী শিবানী কুমারী অনলাইনে ক্লাস করতে পারছিল না। ফলে পরীক্ষায় ফেল হয়ে যাবে এই ভয়ে আত্মঘাতী হল এক তরতাজা প্রাণ।
শিবানীর আসল বাড়ি বিহারের সমস্তিপুরে। লকডাউনে সেখানেই আটকে পড়েছিলেন তাঁর মা-বাবা। এখানে হাওড়ায় নিশিন্দারা রাজচন্দ্রপুরে ভাড়াবাড়িতে দাদার সঙ্গে ছিল শিবানী। স্থানীয় লিটল বার্ড স্কুলে দশম শ্রেণীতে পড়ত সে।
তার পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে যে, তাঁর মোবাইল ফোন খারাপ হয়ে গিয়েছিল। ফলে দীর্ঘদিন ধরে সে অনলাইন ক্লাস করতে পারছিল না। এদিকে মা-বাবা বিহারে আটকে পড়ায় নতুন ফোনও কিনতে পারেনি সে। ফলে সে তার সহপাঠীদের থেকে অনেকটাই পিছিয়ে পড়ছে বলে আশঙ্কায় ভুগত। পরীক্ষায় ফেল করে যাওয়ার ভয়ও পেত শিবানী। এই চাপ সহ্য করতে না পেরে বৃহস্পতিবার বিকালে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় সে।
তাঁর দাদা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার বিকালে তিনি অল্প সময়ের জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়ে ছিলেন। ফিরে এসে অনেক ডাকাডাকি করেও কেউ দরজা খোলেনি ভেতর থেকে। তখন প্রতিবেশীদের সঙ্গে নিয়ে দরজা ভেঙে ঘরে ঢোকেন। চোখে পড়ে মর্মান্তিক দৃশ্য। নিজের বোন শিবানীকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান দাদা। পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে দেহ ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে গিয়েছে। বিহারে শিবানীর মা-বাবাকে তাঁদের একমাত্র মেয়ের মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়েছে। পরিবারের সকলেই ভেঙে পড়েছেন বাড়ির সর্বকনিষ্ঠ এই সদস্যের চরম পদক্ষেপে।





