‘রাজনীতিবিদরা খুব কৌশলী, তাদের প্রচুর টাকা, সেই কারণেই তদন্তের সময়সীমা বেঁধে দিই’, অকপটে জবাব বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের

গত কয়েকমাসে বারবার খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন তিনি। কেউ তাঁকে বলেন আমজনতার বিচারপতি (judge), তো আবার কারোর মতে তিনি অরণ্যদেব। কেউ কেউ মনে করেন তিনি পক্ষপাতদুষ্ট, তো কারোর কথায় তিনি নাকি আইনের এ বি সি ডি কিছুই জানেন না। এতদিন রাজ্যের নানান দুর্নীতি নিয়ে তিনি কথা বলেছেন নিজের এজলাসে বসে। এবার সরাসরি এক বেসরকারি সংবাদমাধ্যমে নানান বিষয় নিয়ে অকপটে জবাব দিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Avijit Ganguly)।

যাদের বিরুদ্ধে তিনি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন, তাদের জন্য সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। কিন্তু কারণটা কী? বিচারপতির কথায়, “তদন্তের সময় বেঁধে দেওয়ার কারণ, যে রাজনীতিবিদ, যে আধিকারিকদের কথা বলছি, তাঁরা প্রত্যেকেই অত্যন্ত কৌশলী। তাঁদের প্রচুর টাকা। প্রচুর টাকা খরচ করে তাঁদের লিগাল আইনি পরামর্শ নেওয়ার মত সারা ভারতবর্ষের যে কোনও প্রান্ত থেকে অনেকেই আছে। নির্দিষ্ট সময় যদি দেওয়া না থাকে, তবে তাঁরা যে কোনওভাবে সেই দিনটি এড়িয়ে যাবে”।

বিচারপতির কথায়, “যদি সিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদ তারা এড়িয়ে যান, তবে অনেক প্রমাণই তারা নষ্ট করে দিতে পারেন। তাই কোর্টের আদেশ নির্দিষ্ট করে দিয়েছি। সময়ের মধ্যে সবাই গিয়েছেন। এমন কেউ নেই যে যেতে পারেননি। না গেলে ভয়ঙ্কর কাণ্ড হত। আমি আবার আইন প্রয়োগ করতাম। সেই ক্ষমতা আমার রয়েছে”।

তাঁর এহেন মন্তব্য যে বড়সড় বিতর্কের জন্ম দিতে পারে, তা বেশ ভালো করেই জানেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। কিন্তু তবুও নিজের অবস্থান থেকে একচুলও সরতে রাজি নন তিনি। তাঁর কথায়, “শুধু আমি নয়, দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে বিচারপতি রুখে দাঁড়াবেন, তিনিই প্রোজেক্টেড হবেন”।

বিচারপতির সংযোজন, “আমায় জুডিশিয়ারি থেকে বহিষ্কার করে দিলেও, আমি মনে করি আমি যা করেছি ঠিক করেছি। আমি জানি বেকার জীবন কী। রুপোর চামচ মুখে দিয়ে জন্মাইনি। টেরর মাঝেমাঝে অত্যন্ত ভাল ফল দেয়। অফিসারদের মনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে যে বেনিয়ম করে পার পাওয়া যাবে না”।

বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় এও বলেন, “আমি জীবনানন্দকে মনে রাখতে চাই। যিনি স্বীকৃতি পেয়েছিলেন মারা যাবার পর। অন্তত একটা-দুটো রায় দিয়ে যেতে চাই, একটা দুটো নজির স্থাপন করে যেতে চাই যেটা আমি যখন থাকব না, তখন হয়তো কোনও গবেষকের তথ্যে উঠে আসবে যে, একজন জাজ এরকম করতেন। সেটা পাগলামি হতে পারে। বেঁচে কেউ থাকে না। ইতিহাস কাউকেই মনে রাখে না”।

RELATED Articles