এম আর বাঙুর, এসএসকেএম-এর পর অভিযোগের তীর ছুটে গেল কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের দিকে। হাসপাতলে রোগী ভর্তি করানোর পর পরিবারের সঙ্গে আর দেখা করতে দেওয়া হচ্ছেনা। অসুস্থ মানুষটি কেমন অবস্থায় আছেন সেই খবর টুকুও দিতে পারছেনা চিকিৎসক-নার্স, সুপার-পুলিশ সহ হাসপাতালে কেউই। মানুষটি আদৌ বেঁচে আছেন তো? চিন্তায় ঘুম ছুটেছে পরিবারের! কি করে দেখা করবেন নিজের প্রিয়জনের সঙ্গে? কেই বা সাহায্য করবেন? এই প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজছেন আর্মাহ্স্ট্রিট-এর বাসিন্দা পূজা জয়সওয়াল।
তাঁর বাবা আনন্দলাল জয়সওয়ালের সম্প্রতি জ্বর হয়। কোভিড-এর আশঙ্কায় গত ১২ই মে পূজা বাবাকে মুখ্যমন্ত্রীর সাধের কোভিড হাসপাতাল কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করেন। চিকিৎসকেরা আনন্দ বাবুকে পরীক্ষা করে গ্রীণ বিল্ডিংয়ে ভর্তির নির্দেশ দেন।
আর এখন সেই কারণেই রীতিমতো হাত কামড়াচ্ছেন পূজা। কারণ চার পাঁচ দিন কেটে গেলেও বাবার কোনও রকম খবরই পাচ্ছেন না তিনি। বাবার সঙ্গে দেখা করতে মরিয়া মেয়ে কিনে ফেলেছেন পিপিই কিটও। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁর বাবার কোনও খবরই নেই। খবর নেই পুলিশ প্রশাসনের কাছেও।
সেই সঙ্গে তাঁর মনে তৈরী হয়েছে আশঙ্কা, কারণ হাসপাতালে এসে জানতে পেরেছেন কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ থেকে নাকি গায়েব হয়ে যাচ্ছে লাশ, রোগী মারা যাওয়ার চার,পাঁচ দিন পর নাকি জানানো হচ্ছে পরিবারকে।
আনন্দলালের মেয়ের কথায়” গত ১২ তারিখ থেকে আজ তিন চার দিন হয়ে গেল কিন্তু বাবার কোনও খবর নেই।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমার বাবা সংক্রান্ত কোনও তথ্যই দিতে পারছে না। তথ্য নেই পুলিশের কাছেও। আমার থেকে ফোন নাম্বার নেওয়া হয়েছে কিন্তু তা সত্বেও আমাকে কিছু জানানো হচ্ছে না। আমার বাবা আনন্দলাল জয়সওয়াল গ্রীণ বিল্ডিং এর দ্বিতীয় তলায় ৩১৮ নম্বর বেডে ভর্তি আছেন।
আমার প্রশ্ন বাবা কি আদৌ বেঁচে আছেন? নাকি মারা গেছেন? আমরা শুধু এটাই জানতে চাইছি। আমি আজ পিপিই ড্রেস পড়ে শুধুমাত্র নিজের বাবাকে দেখব বলে এখানে এসেছি। কিন্তু এখানকার সুপার সহ অন্য কেউই আমার সঙ্গে কো-অপারেট করছেন না, কোভিডের টেস্ট হয়েছে কিনা সেটাও জানিনা, এমনকী আমার বাবাকে রিলিজও করতে চাইছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এখানে নাকি রাতারাতি বডি গায়েব করে দিচ্ছে, এখানে আমাকে অনেক জন এই কথা বলেছে।” তাঁর আরও অভিযোগ এইরকম ঘটনা ঘটলে আমরা কোথায় যাব? মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় মুখে যে এত বড়বড় কথা বলেন সেগুলো কিসের ভিত্তিতে? তিনি প্রশ্ন তুলেছেন রাজ্য প্রশাসনের মানবিকতা নিয়েও।
কোথায় আনন্দলাল জয়সওয়াল? কলকাতা মেডিক্যালে এখন সেই উত্তরই খুঁজে চলেছেন পূজা জয়সওয়াল।





