এমনিতেই উৎসবের আবহে বাজি পোড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু এবার কোনও রাস্তায় নয়, বরং হাসপাতালেই ফাটল বাজি। শুনতে অবাক লাগলেও, এমনই ঘটনা ঘটল কলকাতার অন্যতম নামী সরকারি হাসপাতাল নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। পাশের ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা রোগীদের তোয়াক্কা না করেই সারারাত ধরে বাজানো হল তারস্বরে মাইক। চলল খানাপিনা, মোচ্ছব।
কী ঘটেছে গোটা ঘটনাটি?
জানা গিয়েছে, গত সোমবার এনআরএস হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মীদের আবাসনে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল। সারাদিন ধরেই সেই বিয়েতে উল্লাস চলছিল। কিন্তু রাত বাড়তেই যেন সেই উল্লাসের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। চলতে থাকে উচ্চস্বরে মাইক। বাড়তে থাকে আনন্দ উদযাপন।
হাসপাতালের ‘বেকার ওয়ার্ড’ ও ‘লেডি এলিয়ট গার্লস হোস্টেল’-এর কাছের রাস্তাতেই দেদার বাজি পোড়ানো হতে থাকে বলে অভিযোগ। এই বেকার ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন ইউরোলজি, নাক-কান-গলা, প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের রোগীরা। কিন্তু সেই রোগীদের তোয়াক্কা না করেই ফাটানো হতে থাকে বাজি, চলতে থাকে মাইক। মধ্যরাত পর্যন্ত চলে এই অত্যাচার।
কী জানাচ্ছেন চিকিৎসক-পড়ুয়ারা?
এই ঘটনায় হাসপাতালের স্টুডেন্ট কাউন্সিলের সভাপতি তথা চতুর্থ বর্ষের চিকিৎসক-পড়ুয়া মধুরিমা রায় অভিযোগ জানিয়ে বলেছেন, “এই ঘটনা একদিনের নয়। বারবার কোনও অনুষ্ঠান হলেই এই কাণ্ড ঘটে হাসপাতালের মধ্যেই। যেখানে রোগীরা আসেন চিকিৎসার জন্য সেখানে এই অনৈতিক কাজ, মানা যায় না”।
কখনও প্রতিবাদ করেননি এমন ঘটনার?
ওই ছাত্রনেত্রীর কথায়, “হাসপাতালের নিরাপত্তায় মোতায়েন পুলিশকর্মীদের জানানো হলে তাঁরা আসেন, সেই মুহূর্তে বন্ধ হয় সব। আবার শুরু হয় একই কাজ। সোমবারও একই ঘটনা ঘটেছে”।
এই ঘটনায় এনআরএসের চিকিৎসক-পড়ুয়া অমৃত আর্য বলেন, “ভেবে দেখুন, একটি হাসপাতালে এই ধরনের কাজ করার সাহস আসে কীভাবে? অবাক হচ্ছি। এই ঘটনা জেনে আমরাও অবাক হয়েছি। আশা করব, ব্যবস্থা নেবেন কর্তৃপক্ষ”।





