বিশ্বভারতীতে তাণ্ডবের প্রতিবাদে কলকাতায় বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের মিছিল, চলল নির্মম পুলিশি অত্যাচার

দিন কয়েক আগে বিশ্বভারতীতে তৃণমূল বিধায়ক নরেশ বাউড়ির উপস্থিতিতে প্রবল বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় তার প্রতিবাদে আজ কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছিল বিজেপির যুব মোর্চা নেতৃত্ব। ‌সেইমতো দুপুর আড়াইটে থেকে কলকাতায় বিজেপি সদর দপ্তর থেকে জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ি পর্যন্ত মিছিলের আয়োজন করা হয় বিজেপির পক্ষ থেকে। যেখানে উপস্থিত ছিলেন বিষ্ণুপুরের সাংসদ তথা যুবমোর্চার সভাপতি সৌমিত্র খাঁ, যুব মোর্চার অন্যতম শীর্ষ নেতা ডঃ অনুপম হাজরা এবং রাজু সরকার। ‌”রবি ঠাকুর লহ প্রণাম” স্লোগান দিয়ে এই মিছিল যখন জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির সামনে পৌঁছায় তখন পুলিশের সঙ্গে রীতিমতো ধস্তাধস্তি শুরু হয় মিছিলে উপস্থিত মানুষজনের। কলকাতা পুলিশ নির্দয়ভাবে এই নেতাদের তুলে নিয়ে গিয়ে পুলিশ ভ্যানে ভরে এবং ধৃতদের লালবাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। গোটা এলাকা রীতিমতো রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি নেয়। এমনকি বিজেপির মহিলা কর্মীদের গায়েও হাত তুলতে পিছপা হয়নি পুরুষ পুলিশ বলে অভিযোগ। গোটা ঘটনায় অনেকেই রীতিমতো আঘাত পান।

বিজেপির পক্ষ থেকে এই মিছিলে শুরু থেকে কোনো বিশৃঙ্খলা চোখে পড়েনি কিন্তু কলকাতা পুলিশের স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে বিজেপি কর্মীদের ওপর এই অত্যাচারের ছবি তুলছে অন্য প্রশ্ন। স্বাভাবিকভাবেই বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব এই ঘটনায় অত্যন্ত ক্ষুব্ধ এবং তাঁদের বক্তব্য, মমতা সরকার এই ভাবে তাদের আওয়াজ কে বন্ধ করে দিতে পারবেন না।

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঐতিহ্য বিজড়িত বিশ্বভারতীতে সোমবার তৃণমূল বিধায়ক নরেশ বাউড়ি বিপুল পরিমাণ লোক নিয়ে এসে বিশ্বভারতী প্রাঙ্গণে মিছিল, বিক্ষোভ, স্লোগান, মেলার মূল প্রবেশদ্বার ভাঙচুর, পাঁচিল তৈরির নির্মাণ সামগ্রী চুরি, পৌষমেলার মাঠে চরম অশান্তি সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ। গোটা এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এই ঘটনায়। কিছু দূরে শান্তিনিকেতন থানা থাকলেও সেই দিন কিন্তু পুলিশকে এই ঘটনার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। এই ঘটনায় নরেশ বাউড়ি ছাড়াও বিশ্বভারতীর তৃণমূল নেতা গগন সরকার-সহ ৯ জনের নামে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সোমবার পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে ৮ জনকে গ্রেফতার করে।

বিজেপি নেতৃত্ব শুরু থেকেই এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে এসেছিলেন। বিশ্বভারতী প্রাক্তনী এবং প্রাক্তন অধ্যাপক ডঃ অনুপম হাজরা যিনি ওই এলাকার প্রাক্তন সাংসদও বটে তিনি জানিয়েছিলেন যে, গোটা ঘটনায় তিনি অত্যন্ত লজ্জিত। বিশ্বভারতীর প্রাক্তনী হিসাবে এবং একজন আশ্রমিক হয়ে তিনি ছোটবেলা থেকে যে পরিবেশ বিশ্বভারতীর চারিদিকে দেখে এসেছেন ওই ঘটনাটি তিনি মেলাতে পারছেন না। তাই এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যেতে পারে না। পুলিশ কোন ব্যবস্থাই নেয়নি ওই তৃণমূল বিধায়ক এবং তার সঙ্গী সাথীদের বিরুদ্ধে। বিজেপির সাফ দাবি রাজ্যের শাসকদলের প্রচ্ছন্ন মদত ছাড়া এই ঘটনা কোনভাবেই ঘটা সম্ভব নয়।

RELATED Articles

Leave a Comment