করোনা সংক্রমণের খবর পাওয়ার পরই বন্ধ চিনারপার্ক সংলগ্ন চার্ণক হাসপাতাল

দেশজুড়ে এখন করোনার ভয়ে সবাই কাবু হয়ে আছে। সংক্রামিতের হার ক্রমশ বেড়েই চলেছে। দেশজুড়ে লকডাউন অব্যাহত রয়েছে। শুধু জরুরি পরিষেবাগুলি আপাতত চালু রয়েছে। কিন্তু তার মধ্যেও সমস্যা দেখা দিচ্ছে। যা প্রমান করছে রাজ্যে চিকিৎসার পরিকাঠামো কতটা দুর্বল।

এবার রবিবার রাতেই বন্ধ করে দেওয়া হল কলকাতার চিনারপার্ক সংলগ্ন বেসরকারি হাসপাতাল চার্ণক।কিন্তু হাসপাতাল বন্ধ হওয়ার খবর না পেয়ে যাঁদের আগে থেকে অনুমতি নেওয়া ছিল, তারা আসতে থাকেন সোমাবার সকালে। কিন্তু হাসপাতাল বন্ধ দেখে ফিরে যেতে বাধ্য হন তাঁরা। এদিন হাসপাতালের তরফে গেটের বাইরে একটি বিজ্ঞপ্তি টাঙানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, করোনার কারণে হাসপাতাল বন্ধ রাখা হয়েছে। ১৫ তারিখ থেকে ফের হাসপাতাল খুলবে।

কয়েকদিন আগে চার্ণক হাসপাতালে ডায়ালিসিস করতে এসেছিলেন এক রোগী। ডায়ালিসিস শেষের পর তিনি ফিরেও যান। পরে শহরের অন্য এক বেসরকারি নার্সিংহোমে তিনি নোভেল করোনাভাইরাসে সংক্রামিত হয়ে মারা যান। এরপরই হাসপাতাল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় স্বাস্থ্য ভবন এবং এখনও অবধি প্রায় শতাধিক চিকিৎসক-নার্স কর্মী এবং রোগীকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে।

সূত্রের খবর, ওই রোগীর মৃত্যুর পর চার্নক হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। সেদিন ডায়ালিসিস রুমে আর কোন কোন রোগী ছিলেন তাও জানতে চাওয়া হয়। রিপোর্ট থেকে খবর পাওয়া গেছে, সেদিন ডায়ালিসিস রুমে থাকা আরও ৫ রোগীর লালারস পরীক্ষাতেও করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। যদিও এ প্রসঙ্গে এখনও কিছু জানায়নি স্বাস্থ্য ভবন। বর্তমানে গোটা হাসপাতাল জীবাণুমুক্ত করতে বন্ধ করা হচ্ছে।

এই ঘটনার পর অনেকেই অনেক প্রশ্ন করছেন সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে। একজন রোগী অন্য কোনো রোগ নিয়ে ভর্তি হচ্ছেন তারপর তিনি করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছেন, এই ঘটনায় চিকিৎসা পরিষেবা বেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। অনেক চিকিৎসকই বলছেন যে, সমস্ত রোগীরই ভর্তি হবার সময় একটা স্ক্রিনিং টেস্টের প্রয়োজন রয়েছে। তাতে আগেই সে করোনা আক্রান্ত কিনা তা বোঝা যাবে এবং সেই মতো তাঁকে আইসোলেশনে রাখা যাবে। কিন্তু বারবার রোগী ভর্তি হয়ে যাওয়ার অনেক পরে করোনা সংক্রমন ধরা পড়লে তা চিকিৎসা ব্যবস্থাতে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে।

RELATED Articles

Leave a Comment