দিল্লি মুম্বাইয়ের পর এবার কলকাতাও লকডাউনের পথে হাঁটতে চলেছে। করোনার সংক্রমণ আটকাতে দক্ষিণ কলকাতার দুই প্রখ্যাত শপিং মল শনিবার থেকেই বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। করোনার প্রভাব আটকাতে এবার বন্ধ করা হলো দক্ষিণ কলকাতার কোয়েস্ট মলও। যদিও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকানগুলো খোলা থাকবে নির্দিষ্ট সময়। কিন্তু অন্য সবকিছু বন্ধ থাকবে আগামী কয়েকদিন। শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত বন্ধ থাকবে ওই শপিং মল। এই তিন দিন সম্পূর্ণ শপিংমলকে স্যানিটাইজড করা হবে বলে জানানো হয়েছে কর্তৃপক্ষের তরফে।
ইতিমধ্যেই করোনা আতঙ্কের জেরে শহরে বন্ধ করা হয়েছে সবকটি প্রেক্ষাগৃহ, থিয়েটার সুইমিং ক্লাব। এবার শপিংমলগুলোকেও বন্ধ রাখার আর্জি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।কিন্তু পুরোপুরি বন্ধ না রেখে আগামী তিনদিন শপিং মলকে শুদ্ধিকরণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোয়েস্ট মল কর্তৃপক্ষ।তারা জানিয়েছেন এত মানুষের আনাগোনা হয় মলে। তাই এই মলেও সংক্রমণ ছড়িয়ে যেতে পারে, তাই আগামী তিন দিন স্যানিটাইজড করার কাজ চলবে শপিংমলে।
ঐ শপিংমলে মোট ১৩০টি দোকান রয়েছে। এর মধ্যে একটি বাদ দিয়ে বাকি সব দোকান বন্ধ থাকবে এমনটাই জানানো হয়েছে ।কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছেন, “আগামী সোমবার থেকে আবার খোলা হবে শপিং মল। তবে তারমধ্যে যদি রাজ্য সরকার পরবর্তী কোনও নির্দেশ দেয় তাহলে সেই নির্দেশমতো পরবর্তী আগামী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে বাইপাসের ধারে অন্য একটি শপিং মল সাউথ সিটি খোলার ও বন্ধের সময় পরিবর্তন করল কর্তৃপক্ষ। অন্যান্য সাধারণ দিনে সেটি সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকে , তবে আগামীকাল থেকে সকাল ১০টার পরিবর্তে ১২টায় খুলবে শপিং মল এবং বন্ধ হবে সাড়ে আটটায়। পাশাপাশি রবিবার সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে সাউথ সিটি। তবে শুধুমাত্র সাউথ সিটিতে থাকা রোজকার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান খোলা থাকবে।
গত কয়েকদিনেই শহরের চেনা ছন্দটা হারিয়ে গিয়েছে করোনার প্রাদুর্ভাবে। রাস্তায় লোকের ভীড় কমেছে। দিনের ব্যস্ত সময়ে বাস বা মেট্রোতে কিংবা লোকাল ট্রেনে যখন পা রাখাই যায় না সেখানে এখন সেই দিনের ব্যস্ত সময়েই দেখা মিলছে না মানুষের। ভিড় যেন এক কল্পনা, কার্যত একের পর এক বাস, মেট্রো, ট্রেন সব অনেকটা ফাঁকা অবস্থাতেই যাতায়াত করছে। এর একটা কারণ বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার তরফে ওয়ার্ক ফ্রম হোম নির্দেশ দেওয়া আর অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া করোনার ভয়।খুব প্রয়োজন না থাকলে এখন মানুষ কার্যত বাড়ির বাইরে বা নিজ এলাকার বাইরে পা রাখতেই চাইছেন না। সেই কারণেই শপিং মল বন্ধের এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।





