Thakurpukur : গাড়ির ব্রেক ফেল করেনি, ইচ্ছে করেই মানুষকে পিষে মারল পরিচালক? বিস্ফোরক অভিযোগ ঠাকুরপুকুরে মৃতের পরিবারের

সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়। ঠাকুরপুকুরের বাজার এলাকায় তখন হাঁটাচলা করছেন বহু মানুষ। কারও হাতে বাজারের ব্যাগ, কেউ বা ফেরার তাড়ায় এগিয়ে চলেছেন নিজের গন্তব্যের দিকে। এক মুহূর্তের জন্যও কারও ধারণা ছিল না, সামনে অপেক্ষা করছে বিভীষিকা। স্বপ্নের কলকাতার রাস্তায় এমন দৃশ্যও অপেক্ষা করতে পারে, তা কে ভাবতে পেরেছিল!

পথ চলতে গিয়ে মাঝে মাঝে শুনেছি, বেপরোয়া গাড়ি, মদ্যপ চালক কিংবা নিয়ন্ত্রণহীন স্টিয়ারিং-এর ভয়ঙ্কর কাহিনি। কিন্তু সেই গল্প যে নিজের চোখের সামনে বাস্তব হয়ে ধরা দেবে, তা বুঝতে পারেননি ঠাকুরপুকুরের ওই পথচলতি মানুষজন। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সবকিছু ওলটপালট। স্বাভাবিক সন্ধ্যা মুহূর্তে পরিণত হল মৃত্যু মিছিলে।

অভিযোগ, রবিবার সন্ধ্যায় ঠাকুরপুকুরের বাজারে আচমকাই তাণ্ডব চালাতে শুরু করে একটি চার চাকার গাড়ি। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, গাড়িটি একের পর এক গাড়িকে ধাক্কা মারতে মারতে এগিয়ে চলছিল। আর সেই গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে ছিলেন পরিচিত এক টেলিভিশন সিরিয়াল পরিচালক, সিদ্ধান্ত দাস। অভিযোগ, তিনি নাকি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। সেই অবস্থাতেই রাস্তায় গাড়ি নিয়ে নেমে পড়েন। তার জেরেই ঘটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান এক পথচারী।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযুক্ত পরিচালকের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুনের অভিযোগে মামলা রুজু হয়েছে। তবে মৃতের পরিবারের দাবি একেবারেই আলাদা। তাঁদের অভিযোগ, এটা কোনও দুর্ঘটনা নয়, বরং পুরোপুরি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। পরিবারের এক সদস্য সাফ জানিয়েছেন, গাড়ির ব্রেক ফেল করার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। কারণ সিসিটিভি ফুটেজে নাকি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, গাড়িটি একবার থেমে যাচ্ছে, আবার ফুল স্পিডে ধেয়ে আসছে। তাহলে কি করে বলা হচ্ছে, ব্রেক ফেল? তাঁদের প্রশ্ন, “গাড়ি যখন বারবার থামছে, তখন ব্রেক ফেল করলে সেটা সম্ভব কীভাবে?”

আরও পড়ুনঃ Ssc Scam : ‘যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে চাকরি পেয়েছি, স্বেচ্ছাসেবক হব কেন?’ মুখ্যমন্ত্রীর প্রস্তাব ফিরিয়ে শহিদ মিনারে অনড় চাকরিহারা শিক্ষকরা

এখানেই শেষ নয়। মৃতের পরিবারের আরও বিস্ফোরক অভিযোগ, তাঁদের থানায় ডেকে টাকার বিনিময়ে গোটা ঘটনা মিটিয়ে নেওয়ার চাপ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, অভিযুক্ত পরিচালকের পরিবারের সদস্য এবং আইনজীবী থানায় উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের সামনে ‘সেটেলমেন্ট’-এর কথা বলা হয়েছে। শুধু তাই নয়, পুলিশি রিপোর্টে মদের বোতল বা গাঁজার কলকে থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের। সব মিলিয়ে, ঠাকুরপুকুর কান্ড ঘিরে প্রশ্ন উঠছে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও। আদৌ কি মৃতের পরিবার সুবিচার পাবে? নাকি ক্ষমতা আর পয়সার কাছে নতজানু হবে আইনের রক্ষকেরা — সেই উত্তরই এখন জানতে চাইছে শহরবাসী।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles