ওষুধের ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধির জেরে প্রতীকী প্রতিবাদ, ‘দয়া করে মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভরা দেখা করবেন না’, অনুরোধ চিকিৎসক যোগীরাজ রায়ের

আমজনতার মধ্যে একটা ধারণা রয়েছে যে মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভদের সঙ্গে নাকি চিকিৎসকদের যোগসাজশ রয়েছে। তবে এবার সেই ধারণাকে বদলে দিলেন চিকিৎসক যোগীরাজ রায়। ওষুধের মূল্যবৃদ্ধির কারণে এবার সরব হলেন তিনি। আর এই কারণে মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভদের উদ্দেশে একটি চিঠিও দিলেন যোগীরাজ রায়।

এই চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছেন যে কোনও মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভদের যেন তাঁর সঙ্গে দেখা না করেন। নানান ওষুধের সঙ্গে সেই সমস্ত ওষুধের দামও উল্লেখ করার কথা জানান তিনি ওই চিঠিতে। কিন্তু কেন এই প্রতিবাদ?

ওষুধের মূল্যবৃদ্ধির কারণে রোগীর পরিজনদের সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। দামের কারণে অনেকেই ওষুধ কিনতে পারছেন না। রোগীর পরিজনরা সেই সমস্যার কথা জানান চিকিৎসক যোগীরাজ রায়কে। এভাবে ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির ঘুর পথে দাম বৃদ্ধির বিরোধিতা করে এবার প্রতিবাদ জানালেন ওই চিকিৎসক।

ওষুধের দাম বাড়ার কারণে রোগীর পরিজনদের যে সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে, সেই বিষয়টি যাতে ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলি পর্যন্ত পৌঁছয়, সেই কারণেই এমন বার্তা দিলেন চিকিৎসক যোগীরাজ রায়।

এই বিষয়ে চিকিৎসক অনির্বাণ দোলুই জানান, “আমাদের অনেকেই একাধিক ওষুধের উপর থাকতে হয়। যাদের অনেকগুলি কো-মর্বিডিটি রয়েছ, তাদের নানান ধরণের ওষুধ খেতে হয়। সেক্ষেত্রে অনেক চিকিৎসকদের প্রবণতা থাকে , যাদের অনেকগুলি অনেক ওষুধ খেতে হয়, তাদের ভালো মানের কিন্তু কম দামের ওষুধ লেখার। কিন্তু এই দাম বৃদ্ধির ফলে যতই কমদামের ওষুধ লেখা হোক না কেন, এর জেরেও রোগীর উপর চাপ বাড়ে। সব ওষুধের সরকারি সাপ্লাই থাকে না। কিছু ওষুধ কিনতে হয়। কিন্তু সেই ওষুধের দাম যদি বেড়ে যায়, তাহলে মানুষ সেগুলি কিনবেন না। তাই ওষুধের দামের উপর নিয়ন্ত্রণ থাকা দরকার। নানান হেলথ স্কিম আনতে গিয়ে ওষুধের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে যে কারণে হেলথ স্কিম আনা হচ্ছে, তার কোনও গুরুত্ব থাকবে না”।

চিকিৎসক যোগীরাজ রায়ের টুইট প্রসঙ্গে অ্যাসোসিয়েশন অফ হেলথ সার্ভিস ডক্টর্সের সম্পাদক মানস ওমটা বলেন, “চিকিৎসকদের পক্ষে প্রতিবাদটা এমনই হওয়া উচিত। যারা মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ, তারাও এই আন্দোলনে সামিল। ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রীর জিএসটি কমাতে হবে। কিন্তু একা একজন চিকিৎসক এই প্রতিবাদ করলে তাতে কর্পোরেটের কিছু এসে যায় না। এর বিরুদ্ধে সংগঠিত আন্দোলন প্রয়োজন”।

RELATED Articles