কেমন হবে এই বছর বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব? বিধি মেনে কেমন কাটবে পুজো? করোনা আবহে বিধি প্রকাশ ফোরাম ফর দুর্গোৎসবের!

করোনা সংক্রমণের নিরিখে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে ভারত। সংক্রমণের ঠেলায় নাজেহাল রাজ্যও। ক্রমেই বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। একইসঙ্গে আবার এগিয়ে আসছে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজা। ১০০ দিনও আর বাকি নেই। বাঙালির আবেগের এই উৎসবে জড়িয়ে থাকে বহু মানুষের পেশাও।

কি ভবিষ্যৎ এই বছরের দূর্গা পুজোর?

আজ নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘সবাইকে আগামী কয়েকদিন সচেতন থাকতে হবে। সামনেই পুজো আসছে। ভাল করে করতে হবে তো। সংক্রমণ কমাতে এখন থেকেই ক্লাবগুলি নিজের নিজের এলাকায় ভূমিকা নিক।’ আর এই কথাতেই আরও মনবল পেয়েছেন শহরের পুজোপ্রেমীরা। আর এই করোনা পরিস্থিতিতে, কীভাবে পুজো হবে সেটা ঠিক করতে দুর্গাপুজোর সংগঠকদের সংগঠন ‘ফোরাম ফর দুর্গোৎসব’-এর কার্যকারি কমিটি বৈঠকে বসে। প্রস্তাবে কী কী গাইডলাইনগুলি দেওয়া হয়েছে, সেগুলি এবার জেনে নেওয়া যাক-

১. রাজ্য প্রশাসনকে কুমোরটুলিকে সঠিক ভাবে স্যানিটাইজ করার জন্য অনুরোধ করতে হবে। ঠাকুর আনার সময় একসঙ্গে অনেকে মিলে কুমারটুলিতে না যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে ‘ফোরাম ফর দুর্গোৎসব’।

২. প্যান্ডেল ও প্রতিমার উচ্চতা খুব বেশি না করাই ভাল। চেষ্টা করতে হবে প্রতিদিন অন্তত একবার পুরো প্যান্ডেল ও প্রতিমা স্যানিটাইজ করার ব্যবস্থা করা।

৩.করোনা পরিস্থিতিতে যথাসম্ভব বাজেট কমিয়ে মণ্ডপের ভিতরে চাকচিক্য কমানোর প্রস্তাব। বাকি অর্থ জনহিতকর কাজে ব্যবহার করতে পারে পুজো কমিটিগুলি।

৪. ঠাকুরের ভোগে গোটা ফল দিতে হবে। পুষ্পাঞ্জলি, সন্ধি পুজো, সিঁদুর খেলার সময় সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা বাধ্যতামূলক।

৫. মণ্ডপের বাইরে থেকেই প্রতিমা দর্শনের সুযোগ থাকলেই ভালো। মূল প্রবেশ পথে ও প্যান্ডেলের ভিতর দায়িত্বরত প্রতিটি স্বেচ্ছাসেবকের শারিরীক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে।

৬. স্বেচ্ছাসেবকদের খেয়াল রাখতে হবে যাতে দর্শকদের মুখ অবশ্যই মাস্কে ঢাকা থাকে। প্রবেশ এবং প্রস্থানের পথে তাঁদের হাতে যদি স্যানিটাইজার দেওয়া যায়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। মূল প্রবেশ পথে একাধিক থার্মাল গান রাখতে হবে। জ্বর নিয়ে কোনও ব্যক্তিকে প্যান্ডেলে ঢুকতে দেওয়া যাবে না।

৭. একসঙ্গে বহু দর্শককে মণ্ডপে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না। একবারে সর্বাধিক ২৫ জনকে প্যান্ডেলে প্রবেশ করানো যাবে। এমনকি ফোরামের পক্ষ থেকেও পুজোর আগে থেকে প্রচার করা হবে যাতে দর্শকরা সারাদিন ধরে ঠাকুর দেখেন। শুধু রাতের কয়েকঘণ্টা ঠাকুর দেখার জন্যে বেছে না নেন।

৮. মণ্ডপ সংলগ্ন এলাকায় স্টল হলে সেখানে দুটি স্টলের মধ্যে অন্তত ৩ থেকে ৪ ফুটের ব্যবধান রাখতে হবে। স্টলের মালিকদের রেডিমেড খাবার বিক্রিতে জোর দিতে। বসিয়ে লোক খাওয়ানো যাবে না।

৯.প্যান্ডেল থেকে লাইট লাগানোর কর্মীদের স্বাস্থ্য সঠিক রাখার দায়িত্ব পুজো কমিটিকে নিতে হবে। তার জন্য থার্মাল চেকিং থেকে বিভিন্ন প্রতিষেধক পুজো কমিটিকে নিশ্চিত করতে হবে।

১০. প্রতিযোগিতার বিচারের সময় বিশেষ করে ফাইনাল রাউন্ডে ১৫ জনের বেশি বিচারক বা এজেন্সির টিমকে প্যান্ডেলের মধ্যে ঢুকতে দেওয়া যাবে না। প্রতিটি বিচারককে প্যান্ডেলে থার্মাল স্ক্রিনিং-এর পরে ঢুকতে হবে। জ্বর নিয়ে প্যান্ডেলে ঢোকা যাবে না। কেবলমাত্র স্বল্প বাজেটে নান্দনিক উৎকর্ষতাকেই পুরস্কারের আওতায় অগ্রাধিকার দেওয়া হোক বলে অনুরোধ করেছেন তারা।

RELATED Articles

Leave a Comment