সামাজিক মাধ্যমে মাঝেমধ্যেই নানা অডিয়ো বা ভিডিও ভাইরাল হয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। কখনও কোনও সেলেব্রিটির ব্যক্তিগত মুহূর্ত, তো কখনও সাধারণ মানুষের ঝগড়াঝাঁটি। তবে সম্প্রতি যে অডিয়োটি ভাইরাল হয়েছে, সেটি নেটিজেনদের ক্ষোভকে তুঙ্গে তুলেছে। কারণ এই অডিয়োতে সরাসরি ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক অফিসারকে কুরুচিকর ভাষায় আক্রমণ করতে শোনা গেছে এক মহিলা ব্যাংক কর্মীকে।
ঘটনাটি মুম্বইয়ের একটি ব্যাংকের সঙ্গে জড়িত। ঋণ সংক্রান্ত আলোচনার সময় সেই সামরিক কর্মী এবং মহিলা ব্যাংক কর্মীর মধ্যে কথোপকথন এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে তা পরিণত হয় অশালীন গালিগালাজে। ভাইরাল হওয়া অডিয়োতে শোনা যাচ্ছে, ওই মহিলা অফিসারের পেশা, সন্তান এমনকি তার পারিবারিক জীবন নিয়েও নোংরা মন্তব্য করছেন। এ ধরনের মন্তব্য শুনে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ হয়েছেন নেটিজেনরা।
অডিয়োতে ওই মহিলাকে বলতে শোনা যায়, “তোরা অশিক্ষিত, তাই তোকে সীমান্তে পাঠানো হয়। পরের টাকায় খেয়ে টিকিস, তাই তোমার সন্তানরা বিকলাঙ্গ হয়ে জন্মায়।” এমনকি তিনি আরও দাবি করেন যে, সামরিক কর্মীরা ভিখারির মতো ঋণের উপর নির্ভর করে জীবন যাপন করেন। শুধু তাই নয়, ওই ব্যাংককর্মী নাকি অফিসারকে শাখায় এসে মুখোমুখি হতে চ্যালেঞ্জও ছুঁড়ে দেন। স্বাভাবিকভাবেই এই ধরনের মন্তব্য সেনাদের সম্মানহানি ঘটিয়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই।
অডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই নেটিজেনদের ক্ষোভ তীব্র হয়। কেউ কেউ অভিযুক্ত মহিলা কর্মীর চাকরি থেকে অবিলম্বে বরখাস্তের দাবি তোলেন। একাধিক ব্যবহারকারী লিখেছেন, এটি শুধু অপমান নয়, দেশের সেনাদের মর্যাদার উপর আঘাত। সামাজিক মাধ্যমে মহিলার পরিচয়ও সামনে আসে। পোস্টে বলা হয়, তার নাম অনুরাধা বর্মা এবং তিনি এইচডিএফসি ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত। তবে এই তথ্য ঘিরে বিভ্রান্তিও তৈরি হয়।
আরও পড়ুনঃ Brain Eating Amoeba: ৪০০ আক্রান্ত কেরালায়, আতঙ্ক বাড়ছে কলকাতায়! কী বললেন ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ?
বিতর্ক বাড়তে থাকায় ব্যাংকের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। সেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, “এইচডিএফসি ব্যাংকে অনুরাধা বর্মা নামে কোনও কর্মী নেই।” যদিও নেটিজেনদের দাবি, ওই মহিলার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। পুরুষ অধিকার কর্মী দীপিকা নারায়ণ ভরদ্বাজও পোস্ট শেয়ার করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “এমন অসুস্থ মানসিকতার মানুষের ব্যাংকের চাকরিতে থাকার অধিকার নেই।” সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক দাবি উঠছে, এই ধরনের দেশবিরোধী আচরণের যথাযথ শাস্তি হোক এবং সেনাদের প্রতি অপমানকারীর আর কোনওভাবে ছাড় না দেওয়া হোক।





