বিধায়কদের বেতন বাড়িয়েছেন, কিন্তু এক ধাক্কায় ১০ লক্ষ টাকা আয় কমে গেল মমতার, মাথায় হাত মুখ্যমন্ত্রীর

গতকাল, বৃহস্পতিবারই পুজোর আগে বিধায়ক ও মন্ত্রীদের বড় উপহার দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধায়কদের বেতন ৪ গুণ বাড়িয়েছেন তিনি। আগে বিধায়করা ১০ হাজার টাকা বেতন পেতেন। এখন সেই বেতন বেড়ে দাঁড়াল ৫০ হাজার টাকায়।

শুধুমাত্র বিধায়কই নয়, বেতন বেড়েছে মন্ত্রীদেরও। তাদের ৪০ হাজার টাকা বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে মুখ্যমন্ত্রীর বেতন বাড়ে নি। এমনিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনও বেতন নেন না। তিনি এর আগে সাংসদ ছিলেন। প্রাক্তন সাংসদ হিসেবেও তাঁর পেনশন ও স্বাস্থ্য বিমা সংক্রান্ত বেশ কিছু সুবিধা পাওয়ার কথা থাকলেও, তিনি সেই সুবিধা নেন না।

মমতার চলে কীভাবে তাহলে?

নানান অনুষ্ঠানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনেকবার বলেছেন যে তিনি যে বই লেখেন, সেই বই বিক্রির টাকাতেই তাঁর দিন চলে যায়। অতিরিক্ত কিছুর প্রয়োজন পড়ে না তাঁর। এমনকি, নানান অনুষ্ঠানে গিয়ে তিনি নিজের বিধায়ক ও মন্ত্রীদেরও বারবার পরামর্শ দেন সংযত হওয়ার। ‘এত টাকা করে কী হবে’, একথা বারবার বলতে শোনা গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীকে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যৌথ পরিবারেই থাকেন বলা যায়। খুবই সরল জীবনযাত্রা তাঁর। খাওয়াদাওয়াও খুবই সাধারণ। ঘরোয়া নিরামিষ রান্নাই পছন্দ তাঁর। পোশাকআশাকেও তেমন বিলাসিতা নেই। তবে এবার আয় কমল মুখ্যমন্ত্রীর।

কী হয়েছে বিষয়টি?

গতকাল, বৃহস্পতিবার ঘরোয়া এক আলোচনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান যে বই বিক্রির টাকা বাবদ তিনি প্রকাশকদের কাছ থেকে যে টাকা পেতেন, সেই আয় কমেছে তাঁর। ১০ লক্ষ টাকা কম পেয়েছেন তিনি। এর জেরে বছরে বেশ অনেকটা আয় কমে গেল মমতার।

শুধুমাত্র বইয়ের টাকাই নয়, নিজের আঁকা ছবি বিক্রি করেও কিছু আয় করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, “সে সব টাকা আমি দান করে দিয়েছি। এখন তো আর ছবিও বিক্রি করা যাবে না। ওঁরা (পড়ুন কেন্দ্রীয় এজেন্সি) সব কিছু নিয়েই প্রশ্ন তুলবে। তাই ঠিক করেছি, ছবি বিলি করে দেব”। জানা গিয়েছে, কলকাতার গ্রেট ইস্টার্ন হোটেল কর্তৃপক্ষকে ৫০টি ছবি দান করার অঙ্গীকার করেছেন মমতা।

RELATED Articles