রাজ্যে আবারও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠল। খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে আক্রান্ত হতে হল এক সংবাদকর্মীকে। হাওড়ার ব্যস্ত এলাকায় দিনের আলোয় এমন ঘটনা শুধু একটি ব্যক্তিগত হামলা নয়, বরং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
ঘটনাটি হাওড়ার পিলখানা রোডে, খবর সংগ্রহ করতে সেখানে পৌঁছেছিলেন সাংবাদিক ময়ূখ ঠাকুর চক্রবর্তী। অভিযোগ, এলাকায় পৌঁছতেই একদল দুষ্কৃতী তাঁকে ঘিরে ধরে বেধড়ক মারধর শুরু করে। কিল-চড়-ঘুষিতে গুরুতর জখম হন তিনি। মুখ ফেটে যায়, নাকের হাড় ভেঙে যায় বলে জানা গেছে। প্রথমে চিত্র সাংবাদিক উজ্জ্বল ঘোষকে হুমকি দেওয়া হয়, তারপরেই ময়ূখের উপর চড়াও হয় হামলাকারীরা।
হামলার পর রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাওড়ার ILS Hospitals-এ ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন। সহকর্মী ও সাংবাদিক মহলের দাবি, পরিকল্পিত ভাবেই এই হামলা চালানো হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, দিনের বেলায় জনবহুল এলাকায় এমন হামলা কীভাবে ঘটল? প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।
এই ঘটনা নতুন নয়, চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি, মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে আক্রান্ত হন সাংবাদিক সোমা মাইতি। বিক্ষোভের মধ্যে তাঁকে চুলের মুঠি ধরে টানাটানি, মারধর ও হেনস্থা করা হয়। অভিযোগ ওঠে, পুলিশের সামনেই ঘটনা ঘটলেও প্রথমে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পরে চাপের মুখে মূল চক্রী সহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।
আরও পড়ুনঃ WB SIR Allegation: ভোটার তালিকায় গরমিল সত্ত্বেও নাম রাখার ‘নির্দেশ’? অডিয়ো ফাঁসে আইএএস অফিসারদের বিরুদ্ধে সরব বিজেপি!
পরপর দুই ঘটনার পর আবারও প্রশ্ন উঠছে—রাজ্যে সাংবাদিকরা কতটা নিরাপদ? মাঠে নেমে খবর সংগ্রহ করা কি এখন ঝুঁকির সমান? সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের দাবি, দ্রুত ও কড়া ব্যবস্থা না নিলে এ ধরনের হামলা বাড়তেই পারে। হাওড়ার ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে, তবে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব সাংবাদিক মহল। এখন দেখার, প্রশাসন কত দ্রুত পদক্ষেপ করে এবং সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।





