Kasba ra*pe case : ‘ওই মুহূর্তের ভিডিয়ো করে ব্ল্যাকমেল’, মেডিক্যাল রিপোর্টে বিভীষিকা! কসবা ধর্ষণ*কাণ্ডে তৃণমূল নেতার পাশবিকতা প্রকাশ্যে!

যে জায়গায় শিক্ষা অর্জনের স্বপ্ন নিয়ে ছাত্রীটি পা রেখেছিল, সেখানেই তার উপর ভেঙে পড়ে পাশবিক লালসার খড়্গ। দিনের আলোয়, ক্যাম্পাসের অন্দরেই ঘটে যায় এমন এক কাণ্ড, যা কেবল রক্ত গরম করে না—মানবতার মেরুদণ্ড কাঁপিয়ে দেয়। কলেজে বন্ধুত্ব, রাজনৈতিক পরিচিতি কিংবা ইউনিয়ন দাদাদের কথায় ভরসা রেখে যে মেয়েটি নিশ্চিন্ত ছিল, সে-ই এক রাতে পরিণত হল লাঞ্ছিতার প্রতিকে।

ঘটনার তদন্ত শুরু হতেই নির্যাতিতাকে নিয়ে যাওয়া হয় ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে। সেখানকার চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে রোমহর্ষক চিত্র। গলায় গভীর কামড়ের দাগ, শরীরের একাধিক অংশে স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন, এমনকি যৌনাঙ্গেও গুরুতর ক্ষত—সব মিলিয়ে ঘটনার ভয়াবহতা প্রমাণ করে মেডিক্যাল রিপোর্ট। চিকিৎসকেরা স্পষ্ট জানান, মেয়েটির উপর বলপূর্বক যৌন হেনস্থা হয়েছে।

মেডিক্যাল পরীক্ষার পর নির্যাতিতার বিবৃতি গ্রহণ করেন চিকিৎসকরা। সেখানেই উঠে আসে, কীভাবে ইউনিয়ন রুমের ওয়াশরুমে নিয়ে গিয়ে প্রথমে তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। মেয়েটির আতঙ্ক, কান্না, আর শ্বাসকষ্ট দেখে অনুরোধের সুরে আবেদন জানায় সে। কিন্তু তাতেও মন গলেনি অপরাধীদের। শারীরিক কষ্টের মাঝেও তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে না গিয়ে শুধুমাত্র ইনহেলার দিয়ে সাময়িকভাবে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা করা হয়।

যখন কিছুটা স্বস্তি অনুভব করে মেয়েটি কলেজ ছেড়ে যেতে চাইছিল, তখনই আরও এক দফা পাশবিকতা শুরু হয়। অভিযুক্তরা তাঁকে গার্ড রুমে টেনে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। এই সময় বাকি দুইজন ছাত্র দাঁড়িয়ে থেকে ঘটনা দেখছিল। ভয়ংকর বিষয় হল, ধর্ষণের সেই মুহূর্ত ভিডিয়ো করে রাখা হয়, যাতে ভবিষ্যতে ব্ল্যাকমেইল করা যায়। নির্যাতিতা এই সমস্ত কিছুর উল্লেখ করে প্রতিটি মুহূর্তের বর্ণনা দেন তদন্তকারী অফিসারদের সামনে।

আরও পড়ুনঃ Kasba case : কসবা গণ*ধর্ষণ কাণ্ডে ভুয়ো তথ্যে উত্তেজনা ছড়ালে মিলবে না রেহাই, সরাসরি সতর্কবার্তা পুলিশের! 

এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত একজন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতা, যিনি কলেজের অস্থায়ী কর্মী হিসেবেও যুক্ত। তাঁর সঙ্গেই এই ঘৃণ্য কাজে সহায়তা করেছিল আরও দুই ছাত্র। কসবা থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। এখন মেডিক্যাল রিপোর্টের ভিত্তিতে আরও শক্তিশালী চার্জশিট গঠনের কাজ চলছে। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে শিক্ষাঙ্গনে এবং রাজনৈতিক মহলে।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles