কলেজ মানেই যেখানে পড়াশোনা আর স্বপ্ন গড়ার জায়গা—সেই জায়গা নিয়েই আতঙ্ক ছড়াচ্ছে দক্ষিণ কলকাতায়। এক কলেজছাত্রীকে ঘিরে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ঘটনার পর চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা শহরে। অভিযোগ উঠছে ছাত্রদের একাংশের বিরুদ্ধে, আবার সেই ঘটনার পর কেউ যেন ভুল তথ্য ছড়িয়ে আরেক বিপদ ডেকে না আনে—সেই বিষয়েও এবার কড়া মনোভাব নিল পুলিশ।
পুলিশ জানিয়ে দিয়েছে, কসবার ওই কলেজে ছাত্রীর অভিযোগ পাওয়ার পর মুহূর্তের মধ্যে কসবা থানার আধিকারিকরা ব্যবস্থা নেয়। বুধবার সন্ধ্যার সেই ঘটনার পর ১২ ঘণ্টার মধ্যেই তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে একজন কলেজের বর্তমান ছাত্র এবং বাকি দুই জন প্রাক্তনী। বর্তমানে তারা ১ জুলাই পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রয়েছে। এই ঘটনায় যাতে কোনও ভুল তথ্য না ছড়ায়, তা নিশ্চিত করতে যাদবপুর ডিভিশনের ডিসিপি-র তরফে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্যে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে—যাচাই না করে কোনও তথ্য ছড়ালে নেওয়া হবে আইনানুগ ব্যবস্থা।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, কলেজেরই এক ছাত্রীর উপর শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। বলা হয়েছে, ওই ছাত্রীর সঙ্গে পূর্ব পরিচয়ের সূত্রে তাঁকে এক নির্জন রুমে ডাকা হয়। এরপর তিনজন একসঙ্গে চড়াও হয় তাঁর উপর। শুধু নির্যাতনই নয়, তাঁকে হুমকিও দেওয়া হয় যাতে কাউকে কিছু না বলেন। কিন্তু সাহস করে ওই ছাত্রী কসবা থানায় অভিযোগ জানালে তৎপর হয়ে ওঠে পুলিশ প্রশাসন। প্রথমে দু’জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, সেখান থেকেই মূল অভিযুক্তের হদিশ মেলে।
এই ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতেও শুরু হয়েছে তরজা। তৃণমূলের কুণাল ঘোষ তীব্র নিন্দা করে বলেন, “যারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত, তাদের গায়ে চামড়া থাকবে না—এমন শাস্তি দেওয়া উচিত।” বিজেপি ও কংগ্রেস এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে কসবা থানা ও কলেজের সামনে বিক্ষোভে নামে। এআইডিএসও, বিজেপি কর্মীরা থানা ঘেরাও করেন। তৃণমূল যদিও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা কোনওভাবেই এ ধরনের অপরাধ বরদাস্ত করবে না।
আরও পড়ুনঃ ধর্ষ*ণকাণ্ডে ধৃত মনোজিত গ্যাং ছাড়েনি ‘রাত দখল’-এর প্রতিবাদী পড়ুয়াদেরও! ফেসবুক ঘেঁটে ডেকে পাঠিয়ে হেনস্থা, মার*ধরের অভিযোগ!
এই ঘটনার গুরুত্ব এতটাই বেশি যে, স্বতঃপ্রণোদিতভাবে হস্তক্ষেপ করেছে জাতীয় মহিলা কমিশন। কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশও জানিয়েছে, এই তদন্ত অত্যন্ত সংবেদনশীলতা ও গুরুত্বের সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে। এখন নজর, আগামী দিনে তদন্ত কী মোড় নেয় এবং দোষীদের কী শাস্তি হয় তার দিকেই।





