milk price hike in bengal : দুধের দামে ‘নভেম্বর ঝড়’! বাংলার ডেয়ারির লিটারপ্রতি দাম একলাফে ৪ টাকা বেশি, — এই সিদ্ধান্তের পেছনে কী কারণ? কি বললেন মন্ত্রী?

দুধ প্রায় প্রতিটি বাড়ির প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় জিনিস। সকালের চা হোক বা বাচ্চার গ্লাসভরা দুধ, এই তরল খাদ্য ছাড়া দিন শুরু করা অনেকের পক্ষে কঠিন। কিন্তু নভেম্বরের শুরুতেই দুধপ্রেমীদের মুখে চিন্তার ভাঁজ। কারণ, হঠাৎ করেই লিটারপ্রতি ৪ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গিয়েছে বাংলার ডেয়ারির দুধের দাম। এই বাড়তি খরচ সামলাতে এখন রীতিমতো মাথায় হাত সাধারণ মানুষের।

গত কয়েক মাস ধরেই দুধের দামে ধীরে ধীরে ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছিল। কখনও এক টাকা, কখনও দুই টাকা—এভাবে বাড়ছিল দাম। কিন্তু নভেম্বরের শুরুতে সেই বাড়তি অঙ্ক একলাফে ৪ টাকায় পৌঁছেছে। বাংলার ডেয়ারির সবচেয়ে উন্নত ব্র্যান্ড ‘সুপ্রিম’-এর দাম অক্টোবরে যেখানে ছিল লিটারপ্রতি ৫৬ টাকা, নভেম্বরের শুরুতেই তা দাঁড়িয়েছে ৬০ টাকায়। শুধু এই ব্র্যান্ডই নয়, ‘তৃপ্তি’ ও ‘স্বাস্থ্যসাথী ডবল টোন’-এর দামও যথাক্রমে ৫২ থেকে ৫৪ টাকা এবং ৪৬ থেকে ৪৮ টাকায় পৌঁছেছে। অর্থাৎ, দেড় বছরের মধ্যে বাংলার ডেয়ারির দুধে লিটারপ্রতি প্রায় ১০ টাকার পার্থক্য তৈরি হয়েছে।

দামের এই হঠাৎ উত্থানে নাজেহাল সাধারণ মানুষ। অবসরপ্রাপ্ত রেলকর্মী বিমল মণ্ডল বলেন, ‘‘মাদার ডেয়ারির সময় থেকে এত বছর ধরে দুধ কিনছি, কিন্তু এমন একধাক্কায় দাম বাড়তে দেখিনি।’’ অন্যদিকে হুগলির এক চা দোকানদার সঞ্জয় ঘোষের মন্তব্য, ‘‘দুধের মান সত্যিই ভালো, কিন্তু লিটারপ্রতি ৪ টাকা একসঙ্গে বাড়ানো ছোট ব্যবসায়ীদের পক্ষে কঠিন।’’

রাজ্যের প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ জানিয়েছেন, এ বছরের অতিবৃষ্টির কারণে ঘাস ও গোখাদ্যের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ফলে দুধের উৎপাদন কমেছে, কাঁচামালের দামও বেড়েছে। দুগ্ধ উৎপাদকদের স্বার্থ বজায় রাখার জন্যই বাংলার ডেয়ারি কিছুটা মূল্য বৃদ্ধি করেছে। মন্ত্রীর দাবি, অন্যান্য সংস্থার তুলনায় এখনও বাংলার ডেয়ারির দুধ ৪ থেকে ৬ টাকা সস্তা।

আরও পড়ুনঃ Anubrata Mondal : এসআইআর নিয়ে তৃণমূলের গণ্ডগোলের মাঝেই বিস্ফোরক অনুব্রত! “জেল খাটব, কিন্তু দেশ ছাড়ব না”- দাবি কেষ্ট’র!

২০১৯ সালে মাদার ডেয়ারির নাম বদলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে রাখা হয় ‘বাংলার ডেয়ারি’। রাজ্য নিয়ন্ত্রণে আসার পর সংস্থাটি উৎপাদন বাড়াতে নতুন কারখানাও গড়েছে হরিণঘাটা ও মাটিগাড়ায়। তবুও চাহিদার চাপ এবং কাঁচামালের ব্যয় বৃদ্ধির ফলে মূল্যবৃদ্ধি এড়ানো সম্ভব হয়নি। যদিও ঘি, পনির বা আইসক্রিমের মতো পণ্যের দাম আপাতত অপরিবর্তিত রেখেছে সংস্থা।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles