আজ, বৃহস্পতিবার সকালেই জোড়াবাগানের একটি বাড়ির ছাদ থেকে এক ৯ বছরের নাবালিকার গলাকাটা দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় ফরেন্সিক দল। নাবালিকাকে যৌন নির্যাতন করে শ্বাসরোধ করেই খুন করা হয়েছে বলে জানাল ফরেন্সিক দল। তাঁরা এও জানিয়েছেন যে নাবালিকার উপর পৈশাচিক নির্যাতন চালিয়েছে অপরাধী। এরপর প্রমাণ লোপাটের জন্য শ্বাসরোধ করে তাঁকে খুন করা হয়। মৃত্যু নিশ্চিত করতে গলায় আড়াআড়িভাবে ছুরি চালানো হয় বলে জানা গিয়েছে।
ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের থেকে জানা গিয়েছে যে নাবালিকার দাঁতও ভাঙা হয়েছে। ঘটনাস্থলে মিলেছে সেই দাঁতগুলি। টেনে ছেঁড়া হয়েছে নাবালিকার মাথার পেছনের চুলও। অপরাধীর হাত থেকে আপ্রাণ বাঁচার চেষ্টা করে নাবালিকা। ধ্বস্তাধস্তির চিহ্ন মিলেছে। দেহ উদ্ধারের সময় নাবালিকার পরনে নিম্নাঙ্গের বস্ত্র ও অন্তর্বাস থাকলেও, গোপনাঙ্গ উন্মুক্ত ছিল। এছাড়াও, ছাদে হাওয়াই চটি পরা ও খালি পায়ের অনেক চিহ্ন মিলেছে। তবে অপরাধীর পাশাপাশি অনেক মানুষই খোঁজাখুঁজির জন্য ছাদে উঠেছিল। এই কারণে নির্দিষ্ট একটি পায়ের ছাপ খুঁজে বের করা বেশ কঠিন।
নাবালিকার পরিবারের সূত্রে জানা গিয়েছে যে সেই-ই ছিল তিন বোনের মধ্যে সবথেকে ছোটো। নির্যাতিতা নাবালিকা কলেজ স্ট্রীটের একটি স্কুলে পাঠরত ছিল। গতকাল সন্ধ্যেয় নিজের দিদির সঙ্গে জোড়াবাগানে মামাবাড়িতে ঘুরতে যায় সে। এরপর সাড়ে আটটার পর থেকেই তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায় না। এরপর জোড়াবাগান থানায় নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ দায়ের করা হয়। কিন্তু পরিবারের তরফে অভিযোগ, পুলিশ সেভাবে এই ঘটনাটিতে আমল দেয়নি। এরপর আজ সকালে তার মামাবাড়ি থেকে অল্প দূরের একটি বাড়ির ছাদ থেকে নাবালিকার অর্ধ বিবস্ত্র দেহ উদ্ধার হয়।
এই ঘটনার তদন্ত করছে পুলিশ। খতিয়ে দেখা হচ্ছে সিসিটিভি। এর পাশাপাশি, শেষবার নাবালিকাকে যে দুই বালিকার সঙ্গে দেখা গিয়েছিল, অভিভাবকের উপস্থিতিতে তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।





