দায়িত্ব পেয়েই তৎপর, ক্যাম্পাস পরিদর্শন যাদবপুরের নয়া উপাচার্যের, অ্যান্টি র‍্যাগিং কমিটির বৈঠক ডাকলেন বুদ্ধদেব সাউ

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্যের দায়িত্ব পেয়েছেন বুদ্ধদেব সাউ। আর দায়িত্ব পেয়েই বেশ তৎপর হয়েছেন তিনি। আজ, সোমবার প্রশাসনিক ভবন অর্থাৎ অরবিন্দ ভবনে হাজিরা দিয়েই ক্যাম্পাস ঘুরে দেখলেন তিনি। ক্যাম্পাসের একাধিক জায়গা অপরিষ্কার, ঝোপঝাড়ে ভর্তি। তা পরিষ্কারের উদ্যোগ নেবেন বলে জানান তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলে প্রথম বর্ষের ছাত্র মৃত্যুর জেরে যে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তার জন্য অ্যান্টি র‍্যাগিং কমিটির বৈঠক ডাকেন নতুন উপাচার্য।

গত ৯ আগস্ট যাদবপুরের মেন হস্টেলে বাংলা প্রথম বর্ষের ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় তোলপাড় বিশ্ববিদ্যালয়। এই মুহূর্তে কোনও স্থায়ী উপাচার্য নেই। তাই পরিস্থিতি সাপেক্ষে গণিত বিভাগের বিভাগীয় প্রধানকে অস্থায়ী উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য তথা রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস। শনিবার এই বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার পর রবিবারই অধ্যাপক বুদ্ধদেব সাউ বিশ্ববিদ্যালয় গিয়ে প্রাথমিকভাবে কার্যভার বুঝে নেন। আজ, সোমবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন।

কী কী উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন নতুন উপাচার্য?

শুরু থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে র‍্যাগিং-সংস্কৃতিতে রাশ টানতে চাইছেন নয়া উপাচার্য। এদিনের বৈঠকে সমস্ত বিভাগের প্রধানদের ডাকেন তিনি। ক্যাম্পাসে এবং হস্টেলে র‌্যাগিং রুখতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তা তাদের সঙ্গে কথা বলেই তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানা গেছে। ইতিমধ্যেই নানান মহল থেকে ক্যাম্পাসে সিসিটিভি লাগানোর দাবি উঠেছে। তার বিরোধিতায় সরব হয়েছেন পড়ুয়াদের একাংশ। এদিনের বৈঠকে তা নিয়েও কথা হতে পারে বলে জানা গেছে।

এদিন ক্যাম্পাসে গিয়ে প্রথমে অরবিন্দ ভবনে যান উপাচার্য বুদ্ধদেব সাউ। এরপরই গোটা চত্বর পরিদর্শনে বেরন। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অপরিচ্ছন্নতা নিয়ে কথা বলেন। জানান, ক্যাম্পাসের বাগানে প্রচুর ওষধি গাছ আছে। সেসব আলাদাভাবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তা বাদ দিয়ে জঞ্জাল সাফ করা হবে। মনে করা হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসে ম’দ-মা’দ’কের আসর নিয়ে লাগাতার যে অভিযোগ উঠছে, তার পরিপ্রেক্ষিতেই উপাচার্যের এই টহলদারি। 

প্রথম বর্ষের ওই পড়ুয়া মৃত্যুতে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। কীভাবে ওই পড়ুয়া ওপর থেকে নীচে পড়লেন, মৃত্যুর আগে তাঁর সঙ্গে কোনও অত্যাচার করা হয়েছিল কী না, এইসব খতিয়ে দেখছে পুলিশ। সঙ্গে কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।

RELATED Articles