বন্ধ হল শহরের আরও একটি হাসপাতাল! পার্ক সার্কাসের শিশু হাসপাতাল ‘ইনস্টিটিউট অফ চাইল্ড হেল্থ’ সাময়িক ভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সূত্রের খবর, ওই হাসপাতালে ইতিমধ্যেই ১৪ জন নার্সের করোনা পজিটিভ ধরা পড়েছে। এর ফলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল স্যানিটাইজ় করার পরে ফের শুরু হবে চিকিৎসা পরিষেবা। এখন যারা ভর্তি আছে, তাঁদের চিকিৎসা অবশ্য বন্ধ হবে না।
সূত্রের খবর, আক্রান্ত ১৪ জন নার্সকে ভর্তি করা হয়েছে রাজারহাটের চিত্তরঞ্জন ক্যানসার হাসপাতালে। যদিও স্বাস্থ্যভবন মারফত এই বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি এখনও।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক, এই শিশু হাসপাতালের এক চিকিৎসকের কথায়, “হাসপাতালের আরও অনেক সদস্যই আক্রান্ত বলে আমাদের অনুমান। ব়্যান্ডম টেস্ট করলে আরও কিছু চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীর পজিটিভ ফল আসবে হয়তো। আর কয়েক দিনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। চিকিৎসকদের নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করা হলে তা কেবল চিকিৎসকদের বিপদ নয়, তা রোগীদেরও বিপদ।”
গতকালই খবর পাওয়া গিয়েছিল সাময়িক ভাবে চিকিৎসা পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে পিয়ারলেস হাসপাতাল। সোমবার বিকেলে হাসপাতালের তরফে এক বিবৃতিতে এ কথা ঘোষণা করা হয়। কোভিড আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা করতে গিয়ে হাসপাতালের অনেক স্বাস্থ্যকর্মীই তাঁদের সংস্পর্শে এসেছেন। ফলে হাসপাতালের অনেক কর্মী কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন, অনেকে হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন, আবার অনেকে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে হাসপাতালে কাজে যোগ দিচ্ছেন না। এই অবস্থায় বাধ্য হয়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
আজ ফের একই খবর এল আইসিএইচ থেকে। কিছুদিন আগেই একাধিক চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন মেডিক্যাল কলেজে। বন্ধ রাখা হয় সেই হাসপাতালও। একই কারণে স্যানিটাইজ করার জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল চার্নক হাসপাতাল। কামারহাটির সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল থেকেও একের পর এক স্বাস্থ্যকর্মীর আক্রান্ত হওয়ার খবর আসছে।
পিয়ারলেস হাসপাতালের চিফ এগজিকিউটিভ অফিসার চিকিৎসক সুদীপ্ত মিত্র বলেন, “আমরা সরকারকে জানিয়েছি, আমাদের প্রচুর রোগী, প্রচুর চিকিৎসক। এই অবস্থায় হাসপাতাল খোলা রাখাটা ঝুঁকি হয়ে যাবে। আমরা স্তরে স্তরে গোটা হাসপাতালকে জীবাণুমুক্ত করব। করোনা রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ডও তৈরি হচ্ছে। সেটা তৈরি না হওয়া অবধি পরিষেবা চালু করব না। তবে যে ১৫০ রোগী ভর্তি আছেন, তাঁদের দায়িত্ব আমাদেরই।”
বস্তুত, কোনও হাসপাতালের ঘটনাই বিচ্ছিন্ন নয়। গত মাস দুয়েক ধরেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নানা সরকারি, বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমে একের পর এক চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীরা করোনভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন। মেডিক্যাল কলেজে তো এই সংখ্যাটা মাত্রা ছাড়িয়েছে। ফলে স্বাস্থ্য দফতরের কর্তাদের চিন্তা ক্রমেই বাড়ছে।
এই দেশে এখনও পর্যন্ত ৯ জন চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তেই চিকিৎসক-নার্সরা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন।





