হাতে একটা ডিএসএলআর আর সঙ্গে ঢাকাই জামদানি পরিহিতা কোনও বান্ধবী বা তরুণী মডেল। গন্তব্য কুমোরটুলি আর লক্ষ্য ভিন্ন সাজে নানান পোজ দিয়ে মা দুর্গার সঙ্গে নানান ছবি তোলা। তবেই না সোশ্যাল মিডিয়ায় বাড়বে ফলোয়ার্স, আসবে লাইক-কমেন্টের বন্যা। কিন্তু এই সব কিছুর মধ্যে প্রাণ ওষ্ঠাগত কুমোরটুলির মৃৎশিল্পীদের।
পুজোর আর বেশিদিন বাকি নেই। এখন কুমোরটুলিতে ঠাকুর তৈরির কাজ তুঙ্গে। একেই এক নাগাড়ে চলছে বৃষ্টি আর এর উপড়ে আনার এইসব মডেল-ফটোগ্রাফারদের জ্বালায় কাজে আরও বেশি দেরি হয়ে যাচ্ছে মৃৎশিল্পীদের। এর জেরে বড় বিপদে পড়েছেন তারা।
এখন কুমোরটুলিতে ইতিউতি উঁকি মারলেই দেখা মিলবে মডেল ও ফটোগ্রাফারদের ভিড়ের। কুমোরটুলির অলিগলিতে এখন যেন শুধুই ক্যামেরার শাটারের শব্দ প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। স্লিভলেস ব্লাউজ পরে ত্রিনয়নী সেজে কোথাও চলছে একের পর এক পোজ, তো কোথাও আবার মা দুর্গার সামনে দুর্গা সেজেই সি’গা’রে’টে সুখটান। ভক্তিশ্রদ্ধার জ্ঞানগম্যি হারিয়েছেন তারা। কেউ কেউ তো পারলে যেন মা দুর্গার কোলেই উঠে পড়েন বলে জানাচ্ছেন মৃৎশিল্পীরা।
সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইক ও ফলোয়ার্স বাড়ানোর কারণে কেউ মা দুর্গার কাঁধে হাত দিয়েই পোজ দিচ্ছেন, কেউ আবার অশালীন কায়দায় শাড়ি পরে তুলছেন ছবি। এর জেরে বেজায় বিরক্ত কুমোরটুলির মৃৎশিল্পীরা। আগামী ১৪ অক্টোবর মহালয়া। ওইদিন কুমোরটুলিতে এসে শাড়ি পরে সেজেগুজে ছবি দিলেই গুচ্ছ গুচ্ছ লাইক।
এক মৃৎশিল্পী সৌমেন পালের বলেন, “আগে ছিল উঠতি মডেল। এখন তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ব্লগার। কেউ কেউ নিজেরাই দুর্গা সেজে ত্রিশূল কিনে চলে আসছে। ঠাকুরের সামনে অঙ্গভঙ্গি করে নাচ গান করছে। বিষয়টা দিন-কে-দিন সহ্যের অতীত হয়ে যাচ্ছে”।
কুমোরটুলিতে কুমোরটুলি মৃৎশিল্প সাংস্কৃতিক সমিতি, কুমোরটুলি প্রগতিশীল মৃৎশিল্প সাজশিল্প সমিতি, আর একটা কুমোরটুলি মৃৎশিল্প সমিতি নামে এই তিন সমিতি রয়েছে। এই তিন সমিতিই মডেল-ফোটোগ্রাফারদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ। সমিতির পক্ষ থেকে সম্প্রতি এঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জানানো হয়েছে, শ্যামপুকুর থানায়।
মৃৎশিল্প সাংস্কৃতিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক রঞ্জিত সরকার জানিয়েছেন, “থানাকে আমরা জানিয়েছি, দয়া করে এদের একটু নিয়ন্ত্রণ করুন। কিন্তু পুলিশ আধিকারিকদের সাফ জবাব, কোন আইনে এমন শখের মডেল-ফোটোগ্রাফারদের নিয়ন্ত্রণ করব”।





