আর কিছু মিনিটের অপেক্ষা! ল্যান্ডফল হতে চলেছে চরম শক্তিশালী সুপার সাইক্লোন আম্ফানের। আর এই ঝড়ের প্রভাব মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে শহর কলকাতার। এমনটাই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। মনে করা হচ্ছে, আয়লা ঝড় কলকাতার উপর যতটা প্রভাব ফেলেছিল, এই ঝড় তার চেয়েও বেশি মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। ১১০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উল্লেখ্য, তার আসার পূর্বাভাস মঙ্গলবার থেকেই টের পাওয়া গেছে কলকাতায়। বিকেল থেকেই কমতে শুরু করেছে তাপমাত্রার পারদ। আকাশ কালো করে মেঘ করে এসে বৃষ্টি শুরু হয়েছে নানা জায়গায়। মঙ্গলবার রাত থেকে শহরের বহু এলাকায় মাইকিং করে মানুষকে সতর্ক করেছে প্রশাসন। কেটে দেওয়া হয়েছে বড় বড় গাছের ডাল। মাঝে মধ্যেই বইছে ঝোড়ো হাওয়া।
বুধবার সকাল থেকেও একটানা চলেছে বৃষ্টি। সঙ্গে জোরালো হাওয়া। বহু জায়গায় বাজার বসেনি। যেখানে বসেছে, সেখানেই পুলিশ গিয়ে সতর্কতা জারি করেছে। অস্থায়ী ঝুপড়ির বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে আলাদা করে। আবহাওয়া দফতরের সবুজ সংকেত না পাওয়া পর্যন্ত বাড়ি থেকে বেরোতে বারণ করা হয়েছে বহু এলাকার বাসিন্দাদের।
আবহাওয়া দফতরের কর্তারা বলছেন, ল্যান্ডফল হওয়ার পরে ঝড়টি যাবে কলকাতার ঠিক ওপর দিয়েই। ঘূর্ণিঝড় উমফানের জেরে কলকাতা ও সংলগ্ন জেলাগুলিতে প্রবল ঝড় হতে পারে। বুধবার বিকেল থেকে রাতভর চলবে এই জোরালো ঝড় ও বৃষ্টি। বৃহস্পতিবার বেলা বাড়লে নিষ্কৃতি মিলতে পারে দুর্যোগের হাত থেকে।
আগাম সতর্কতা হিসেবে তৎপর হয়েছে কলকাতা বিমানবন্দরও। ইতিমধ্যেই সেখান থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে ১০টি ছোট বিমান। প্রবল হাওয়ায় ছোট বিমানগুলি টার্মিনাল বা পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বড় বিমানে ধাক্কা মারতে পারে। তাই বড় ক্ষতি এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা হচ্ছে নবান্ন’র কন্ট্রোলরুম। পরিস্থিতির উপর একটানা নজর রেখে চলেছে প্রশাসন। আশঙ্কা সত্যি করে যদি ১১০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বয়ে যায় শহরের ওপর দিয়ে, তবে তার ক্ষতি মারাত্মক হতে পারে, এ কথা বলাই বাহুল্য। কলকাতা পুলিশের তরফেও খোলা হয়েছে আলাদা কন্ট্রোল রুম।
https://twitter.com/KolkataPolice/status/1262719107788468224?s=20





