ফের একবার বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। কিছুমাস আগেই র্যাগিংয়ের জেরে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনা ঘটে সেখানে। এবার এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌ’ন প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠল সেই প্রস্তাবে রাজি না হলে ছাত্রীকে পরীক্ষা না দিতে দেওয়ার, এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া করার হুমকিও দিলেন ওই অধ্যাপক, এমনটাই অভিযোগ। এই ঘটনার কথা জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্টারকে একটি ই-মেইল পাঠিয়েছেন ওই ছাত্রী।
কী অভিযোগ করেছেন ওই ছাত্রী?
জানা গিয়েছে, ওই ছাত্রী জার্নালিজম ও মাস কমিউনিকেশনের এমএ ফাইনাল ইয়ারের ছাত্রী। গত ২১ তারিখ সেমিস্টারের পরীক্ষা ছিল তাঁর। সেই সময় পরীক্ষা হল থেকেই তাঁকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযুক্ত অধ্যাপক তাঁকে নিজের ঘরে ডেকে পাঠান। এরপর নাকি ছাত্রীর হাতে কালি ঢেলে দিয়ে তিনি ছাত্রীর বিরুদ্ধে টুকলির অভিযোগ তোলেন। ছাত্রীকে অবাঞ্ছিতভাবে স্পর্শ করতে থাকেন ওই অধ্যাপক, এমনটাই অভিযোগ ওই ছাত্রীর।
ছাত্রীর কথায়, “আমি স্যরকে বলি আমি আমার হাতের ছবি তুলে রাখতে চাই। আপনি যা করছেন, তার প্রমাণ রাখতে চাই। যেভাবে আমার ওপর শারীরিক নির্যাতন হয়েছে, তার প্রমাণ হিসাবে এই ছবি দেখাতে পারব”। তখন অভিযুক্ত অধ্যাপক হুমকির সুরে ছাত্রীকে বলেন তাঁর যৌ’ন প্রস্তাবে যদি সে রাজি না হয়, তাহলে তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন ওই অধ্যাপক।
এরপর বাইরে এসে ওই ছাত্রীর সঙ্গে দুই ‘সিনিয়র দাদা’র দেখা হলে। তারা নাকি ছাত্রীকে বলে, “স্যরের সঙ্গে একান্তে দেখা কর। ভালভাবে পরের পরীক্ষাগুলো দিতে চাইলে স্যরের সঙ্গে যৌ’ন সম্পর্কে লিপ্ত হতে হবে। বাকি কোনও অসুবিধা যাতে না হয়, তা আমরা দেখে নেব”।
ওই ছাত্রী জানান, এমন ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তিনি জানান, “আমি এতটা ভয়ে আছি, আমি ঠিকভাবে কথাও বলতে পারছি না। আমি ভীষণ ভয়ের মধ্যে আছি, কাল আমাকে কী ফেস করতে হবে সেই ভেবে। আমি মানসিকভাবে ভীষণ বিপর্যস্ত হয়ে রয়েছি। জোর করে আমার হাত ধরে টেনে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। আমার মনে হয়েছে, আমাকে কুনজরে দেখা হত”।
একটি ই-মেলের মাধ্যমে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্নেহমঞ্জু বসু,UGC-র চেয়ারম্যান মি. জগদীশ কুমার, প্রো ভাইস চ্যান্সেলর অমিতাভ দত্ত- সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শীর্ষ আধিকারিকদের এই ঘটনাটি জানিয়েছেন ওই ছাত্রী। এদিকে অভিযুক্ত অধ্যাপকের বক্তব্য, “আমি সেদিন পরীক্ষাহলে ছিলামই না। অন্য গার্ড ছিলেন। আমি এর থেকে বেশি কিছু বলব না। কারণ, আমাকে এখনও বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফ থেকে অফিসিয়ালি কিছু জানানো হয়নি”। অভিযুক্ত অধ্যাপকের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনও পদক্ষেপ করেছে কী না, তা এখনও জানা যায়নি।





