ভোটের আগে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন নতুন কিছু নয়। কিন্তু যখন সেই প্রশ্ন সরাসরি নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতাকে ছুঁয়ে যায়, তখন রাজনৈতিক উত্তাপ দ্রুত বেড়ে যায়। সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে এমনই এক বিতর্ক ঘনীভূত হয়েছে, যেখানে বিরোধী শিবিরের তরফে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শোনা গেল নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, শুধুই পরামর্শ দিয়ে দায় সেরেছে কমিশন—কঠোর পদক্ষেপে তারা পিছিয়ে আছে।
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী প্রকাশ্যে দাবি করেন, নির্বাচন কমিশনের পূর্ণ অধিকার রয়েছে সরাসরি সাসপেনশন ও এফআইআর করার। তাঁর কথায়, কমিশন সরকারকে ব্যবস্থা নিতে বলেছিল ঠিকই, কিন্তু নিজেরা কঠোর পদক্ষেপ করেনি। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, “আর কোনও অ্যাডভাইজারির মধ্যে থাকবেন না। পূর্ণ অধিকার আছে, অ্যাকশন শুরু করুন।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে কমিশনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে তিনি দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানান।
এই ইস্যুতে শাসকদলের তরফেও প্রতিক্রিয়া আসে। তৃণমূল নেতা তন্ময় দাস বলেন, আইন অনুযায়ী যা যা করার, তা মুখ্য সচিব নিশ্চিত করবেন। তাঁর দাবি, এখানে রাজনৈতিক কোনও বিষয় নেই এবং দলীয়ভাবে মন্তব্য করারও প্রয়োজন নেই। অর্থাৎ প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যেই বিষয়টি সমাধান হবে বলে বার্তা দেওয়া হয়েছে শাসক শিবিরের পক্ষ থেকে।
বিতর্ক এখানেই থেমে থাকেনি। শুভেন্দু সরাসরি ইআরও (ERO) ও এইআরও (AERO)-দের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দেন। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু জেলা প্রশাসকের পরামর্শ ঘিরে অডিয়ো ক্লিপ ঘুরছে বিভিন্ন পোর্টালে। তাঁর বক্তব্য, ডিএমদের কোনও নির্দেশ ভার্চুয়ালি না নিয়ে লিখিত আদেশ ছাড়া কোনও কাজ করা উচিত নয়। অন্যথায় ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতার প্রশ্ন উঠতে পারে।
আরও পড়ুনঃ WB SIR Voter List: নোটিশ পেয়েও হাজিরা নয়, লজিক্যাল গরমিলেও ধাক্কা—বড়সড় কাটছাঁটের মুখে রাজ্যের ভোটার তালিকা!
সবশেষে শুভেন্দুর মন্তব্যেই বাড়তি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, বেআইনি পদক্ষেপ নিলে শুধু চাকরি যাবে না, জেলেও থাকতে হতে পারে। এই কড়া ভাষা ভোটের আগে প্রশাসনিক মহলে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে। এখন নজর, নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগ ও দাবির প্রেক্ষিতে কোনও সরাসরি পদক্ষেপ নেয় কি না—নাকি পরিস্থিতি আরও রাজনৈতিক সংঘাতে রূপ নেয়।





