রাজ্যের রাজনীতিতে ফের উত্তাপ সৃষ্টি হয়েছে। শহরের রাস্তা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মঞ্চ—সব জায়গায় যেন নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। চলতি সপ্তাহে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) এমন একটি বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে, যা ভোটের আগ মুহূর্তে রাজ্যের রাজনৈতিক আবহকে তিক্ত করে তুলতে পারে। এদিকে ধর্নায় বসে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যেখানে মূলত এক বিতর্কিত বিষয় নিয়ে জনগণের সামনে প্রতিক্রিয়া জানানো হচ্ছে।
পাঁচদিন ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধর্নায় বসেছেন মূলত মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নাম বাদ যাওয়া নিয়ে প্রতিবাদের জন্য। সোমবার সেই মঞ্চে বক্তব্য রাখেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এভাবেই রাজনৈতিক জল্পনা ক্রমেই বাড়তে থাকে। শহরের দফায় দফায় বৈঠক করছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার, অন্যদিকে মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় অবস্থান করছেন তৃণমূলের নেত্রী—এই আবহেই নতুন রাজনৈতিক পরিকল্পনা সামনে আসছে।
তৃণমূল সূত্রে জানা গেছে, এবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট আনার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, এই প্রক্রিয়া অবশ্যই চালু হবে, পরে অভিষেক জানান আলোচনাও চলছে। যদিও সাংবিধানিকভাবে এমন প্রক্রিয়া খুব সহজ নয়, কারণ কার্যত একজন বিচারপতির বিরুদ্ধে যেভাবে ইমপিচমেন্ট আনা হয়, একই প্রক্রিয়া মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। কিন্তু এবার তৃণমূল তা কার্যকর করার দিকে এগোচ্ছে।
সোমবার মধ্যরাতে তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে সই সংগ্রহের কাজও শুরু হয়েছে। অন্তত ১০০ জন সাংসদের স্বাক্ষর প্রয়োজন। তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা মিলিয়ে ৪১ জন, তাই অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বারস্থ হতে হবে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, ইন্ডিয়া জোটের অন্যান্য দলগুলোর কাছে সাহায্য চাওয়া হতে পারে। রাজনৈতিক মহলে এখন সবার চোখ এই প্রক্রিয়ার দিকে।
আরও পড়ুনঃ West Bengal: “এত দিন আমরা সরকারকে ভোট দিয়ে আসছি, কিন্তু সুবিধা পাইনি…. এবার হিসাব হবে ভোটের সময়,” আলুর ন্যায্য দাম না পেয়ে হাহাকার! কৃষকদের ক্ষোভ এবার কি ভোটে প্রভাব ফেলতে চলেছে?
এদিকে বিজেপি (BJP) এই পদক্ষেপকে গুরুত্ব দিতে চাইছে না। তাদের দাবি, তৃণমূলের এ ধরনের ক্ষমতা নেই যে তারা মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট আনতে পারে। বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য, “তৃণমূল শুধু শিরোনামে থাকতে এই ধরনের কাজ করছে।” রাজ্য রাজনীতির এই উত্তাপের মধ্যে ভোটের আগে বড় ধাক্কা হতে পারে রাজনৈতিক জগতে।






