টানা ৫৯ দিন হতে চলল বৃষ্টির মুখ দেখেনি কলকাতা। তীব্র গরমে হাঁসফাঁস করছে শহরবাসী। গরমের সঙ্গে তাপপ্রবাহ, সব মিলিয়ে একেবারে নাজেহাল হওয়ার জোগাড় সাধারণ মানুষের। জেলার অবস্থাও একইরকম। আরও বেশি বললে কম বলা হবে না।
কলকাতা-সহ রাজ্যের নানান জেলার তাপমাত্রা যেন পাল্লা দিচ্ছে রাজস্থানের সঙ্গে। সরকারি স্কুল-কলেজে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু চাকুরীজীবীদের না দিন আনা দিন খাওয়া মানুষের তো আর ছুটি নেই। পেটের তাগিদে শত গরম সহ্য করেও বেরোতে হবে রাস্তায়। মাথায় টুপি, ছাতা দিয়েও যেন কোনও লাভ হচ্ছে না। এবার পথচারীদের কথা ভেবে এক অন্য উদ্যোগ নিলেন তরুণ তুর্কি মোহাম্মদ তৌসিফ রহমান ও মুদর পাথারেয়া।
আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। বাম জমানায় যেখান থেকে বাঘে গরুতে একই ঘাটে জল খাওয়ায় নিদান দেওয়া হয়েছে বারবার। সেখান থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে ২৯ বছরের তৌসিফ গত ২৮ দিন ধরে নিজের বাড়ির ফ্রিজ বাড়ির বাইরে রেখেছেন। প্রতিদিন ৩০টির বেশি জলের বোতল নিজে রেখে দিচ্ছেন সেখানে। তাকে যোগ্য সঙ্গত দিচ্ছেন মুদর।
এই ভাবনা আসলে মুদরের মেয়ের। তিনি বাবাকে জানান যে কাতারে নাকি এমন ব্যবস্থা রয়েছে। আর সবথেকে ভালো ব্যাপার হল, যখনই জল শেষ হচ্ছে, সাধারণ মানুষ নিজেরাই জল ভরে আবার ফ্রিজে ঢুকিয়ে দিচ্ছেন। পথচারীদের তৃষ্ণা নিবারণের জন্য এই ঠাণ্ডা পানীয় জল তাও আবার বিনামূল্যে, তা যে কত বড় পাওনা, তা এই গরমে মানুষ টের পাচ্ছে।
এই গরমের জন্য ঠাণ্ডা জলের হাহাকার বেড়েছে চারিদিকে। জুস থেকে শুরু করে ঠাণ্ডা পানীয়ের চাহিদা বেড়েছে। সেখানে দাঁড়িয়ে তরুণ তৌসিফের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে শহরবাসী।





