‘তৃণমূলের ভবিষ্যৎ অন্ধকার’, প্রশান্ত কিশোরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করলেন তৃণমূল রাজ্য সভাপতি

গোয়া জয়ের লক্ষ্য নিয়ে সে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে লড়েছিল তৃণমূল। কিন্তু লাভের লাভ কিছুই হয়নি। কোনও আসন পায়নি ঘাসফুল শিবির। এরপর এক এক করে দল ছেড়েছেন সে রাজ্যের নানান তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। এবার দল ছাড়লেন গোয়া তৃণমূল রাজ্য সভাপতি কিরণ কান্দোলকর।

গত বছরের নভেম্বরে গোয়া ফরওয়ার্ড পার্টি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন কিরণ। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে তাঁকে রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। বিধানসভা নির্বাচনে উত্তর গোয়ার আলদোনা কেন্দ্র থেকে লড়লেও, খুব একটা সুবিধা করতে পারেন নি তিনি। এদিন দল ছাড়ার পর গোয়ায় বিধানসভা নির্বাচনে হারের জন্য সরাসরি ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোরকে দায়ী কিরণ। তাঁর এভাবে দল ছাড়ার ফলে গোয়ায় তৃণমূলের ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন সাময়িকভাবে শেষ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

এদিন কিরণ প্রশান্ত কিশোরকে দুষে বলেন, “গোয়ায় নির্বাচনের দায়িত্ব আইপ্যাক-কে দিয়েছিলেন বলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে কোনও অভিযোগ নেই আমার। প্রশান্ত কিশোর আইপ্যাকের মাথায় রয়েছেন। তাই ব্যর্থতার দায় যদি কারও উপর বর্তায়, তাহলে তাঁর উপরই বর্তায়। প্রার্থী হিসেবে আমরা ব্যর্থ হইনি। এখানে আইপ্যাক ঢাকঢোল পিটিয়েই এসেছিল। কিন্তু গোয়ায় কৌশল রচনায় ব্যর্থ হয়েছে তারা। প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছিল আমার। গোয়ার জন্য বড় পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচন এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গেই বুঝতে পেরেছিলাম, ওঁর সব পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে”।

প্রশান্ত কিশোরের সংস্থা আইপ্যাকের বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ, “গোয়াতে আইপ্যাকের রাজনৈতিক কৌশল বলে কিছু ছিল না। প্রশান্ত গোয়ায় এসেছিলেন কংগ্রেসকে ব্ল্যাকমেল করার জন্য। কংগ্রেসের ক্ষতি করার জন্য তৃণমূলকে একটি প্ল্যাটফর্ম হিসাবে ব্যবহার করেছিলেন ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর”।

তাঁর সংযোজন, গোয়ায় তৃণমূলের ভবিষ্যত অন্ধকার। বলে রাখি, দিন কয়েক আগেই অভিষেকের সঙ্গে বৈঠক করেন কিরণ। যদিও গোয়া নিয়ে তৃণমূলের ভবিষ্যত পরিকল্পনা স্পষ্ট ছিল না ঘাসফুল শিবিরে। রাজনৈতিক মহলের মতে, অনেকটা সেই কারণেই দল ছেড়েছেন কিরণ কোন্দলকার।

RELATED Articles