ভারতের অভ্যন্তরে দীর্ঘদিন ধরেই মাওবাদী আন্দোলন এক বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে জঙ্গি হামলা, অন্যদিকে নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা অভিযান, এই সংঘর্ষের মধ্যে বহু সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তবে এবার ভিন্ন ইঙ্গিত মিলেছে। মাওবাদীরা প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে সহিংসতা থামানোর প্রস্তাব দিয়ে আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। প্রশ্ন উঠছে, এই উদ্যোগ কি সত্যিই শান্তির নতুন দিশা দেখাবে, নাকি এটি শুধুই কৌশলগত চাল?
১৫ আগস্ট তারিখে স্বাক্ষরিত এবং ১৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মাওবাদী সংগঠন ঘোষণা করেছে যে তারা সাময়িকভাবে সশস্ত্র অভিযান স্থগিত করছে। মুখপাত্র কমরেড অভয় স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে জানানো হয়েছে, পরিবর্তিত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে তারা আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। সংগঠনটি এক মাসের জন্য যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে যাতে তারা নিজেদের নেতৃত্ব, বিশেষত কারাবন্দী সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ করতে পারে। একই সঙ্গে কেন্দ্রকে এই সময়ে নিরাপত্তা অভিযান স্থগিত রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ছত্তিশগড়ের আবুঝামাদ অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া অভিযানে মাওবাদীদের ঘাঁটি ধ্বংস হয়েছে। তাদের সর্বোচ্চ নেতা নাম্বালা কেশব রাও ওরফে বাসভরাজুর মৃত্যুর পর সংগঠনটি কার্যত নেতৃত্বশূন্য অবস্থায় পড়েছে। ফলে তারা একধাপ পিছিয়ে এসে কৌশল পরিবর্তনের পথ বেছে নিয়েছে। বিবৃতিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বারবার অস্ত্র ত্যাগ করে মূলধারায় ফেরার আহ্বান তারা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে।
মাওবাদীরা জানিয়েছে, তারা সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অথবা তার নিযুক্ত প্রতিনিধির সঙ্গে আলোচনা করতে আগ্রহী। প্রয়োজনে ভিডিও কলে সংলাপ চালাতেও তারা রাজি। চিঠিতে বলা হয়েছে, “আমরা জনস্বার্থে কাজ করা অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করব।” তবে সংগঠনটি স্পষ্ট জানিয়েছে যে আলোচনার আগে তাদের প্রয়োজন অন্তত এক মাস সময়, যাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা তাদের সদস্য ও বন্দিদের সঙ্গে আলোচনা করা যায়।
আরও পড়ুনঃ Narendra Modi: ৭৫তম জন্মদিনে বড় উপহার! ৪ কোটি মহিলার জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা ঘোষণা মোদীর!
এদিকে ছত্তিশগড় সরকার জানিয়েছে, তারা মাওবাদীদের দেওয়া বিবৃতির সত্যতা যাচাই করছে। রাজ্যের উপ-মুখ্যমন্ত্রী বিজয় শর্মা স্পষ্ট মত দিয়েছেন—মাওবাদীদের জন্য শ্রেষ্ঠ পথ আত্মসমর্পণ ও পুনর্বাসন। নিরাপত্তা বাহিনীও জানিয়েছে, ‘যুদ্ধবিরতি’ শব্দটির ব্যবহার এবং শর্তাবলী নিয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না এলেও আলোচনার দরজা খোলা থাকবে কি না, তা নিয়েই এখন জল্পনা চলছে। সব মিলিয়ে, বছরের পর বছর ধরে রক্তাক্ত সংঘর্ষের পরে এই প্রস্তাব কি সত্যিই শান্তির সূচনা করবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।





