লাগোয়া ভুটানে পেট্রোল ৭১ টাকা, তবুও অর্থনীতি ভাঙতে বসেছে জয়গাঁতে

মাত্র দু-চার পা এগোলেই ভুটানের ফুটসলিং শহর, সেখানে পেট্রোল বিকোচ্ছে ৭১ টাকা প্রতি লিটার। কিন্তু তবুও সেখানে গিয়ে কম দামে পেট্রোল কেনার উপায় নেই আলিপুরদুয়ার জেলার জয়গাঁ শহরের বাসিন্দাদের।

তবে গত বছরের ২৩শে মার্চ পর্যন্তও সমস্ত ব্যাপারটাই ঠিক ছিল, পরিস্থিতি এগোচ্ছিল রমরমিয়ে। ততদিন পর্যন্ত প্রতিবেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির কারণে জয়গাঁ শহরের বাসিন্দারা পাশের ভুটানের ফুটসলিং থেকে অনেকটাই কম দামে জ্বালানি কিনতে পারতেন ও অন্যান্য ব্যবসা চালাতেন।

আরও পড়ুন- আয়ার মারের চোটে মৃত্যু রোগীর, অভিযোগ উঠল কলকাতার সরকারি হাসপাতালে, চলছে পুলিশি তদন্ত

কিন্তু বাধ সাধল করোনা। সংক্রমণের ফলে লকডাউনের জেরে দীর্ঘদিন ধরেই বন্ধ ভুটান সীমান্ত। এর ফলে জয়গাঁ থেকে ঢিলছোঁড়া দুরত্বের থাকা ফুটসলিং শহরে তেল সংগ্রহ বা কোনও ধরণের ব্যবসা চালাতে পারছেন না কেউই। এর জেরে জয়গাঁ শহর কোনও পেট্রোল পাম্প না থাকায় শহরের সকলকে জ্বালানি আনতে আসতে হয় ১৮ কিলোমিটার দূরে হাসিমারায়।

এর জেরে কার্যত ভেঙ্গে পড়েছে আলিপুরদুয়ারের জয়গাঁ-এর পরিবহণ ব্যবস্থা। এই জয়গাঁ হল আলিপুরদুয়ারের অর্থনীতির ভরকেন্দ্র। কিন্তু এই ভরকেন্দ্র এখন ধুঁকছে। দোকানপাট সব বন্ধ, কবে তা আদৌ খুলবে, তা কারোর জানা নেই।

এই অবস্থায় জয়গাঁ ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন অন্তত পাঁচশো ভারতীয় লরি যাতায়াত করত ভুটানে। কিন্তু এখন তা শূন্যে এসে ঠেকেছে। এর ফলে ব্যাঙ্ক অথবা অন্য সংস্থা থেকে কিস্তিতে নেওয়া বেশ কিছু লরি ক্রোক করে নিয়েছে ব্যাঙ্ক ও বেসরকারি ঋণদানকারী সংস্থাগুলি।

জয়গাঁ ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুমন শ্রীবাস্তব বলেন, “ভুটানে ভারত সরকারের কর প্রযোজ্য নয়। তাছাড়া তেলের উপর অতিরিক্ত কর নেই ওখানে। ফলে পেট্রলের দাম অনেক কম হলেও ভুটানে লাগাতার লকডাউনের কার ণে যাওয়ার উপায় নেই। আমাদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গিয়েছে। এখান থেকে পরিত্রাণের পথ খুঁজে পাচ্ছি না। ভুটান গেট খুলে দেওয়ার জন্য বহু জায়গায় আবেদন জানালেও সুরাহা হয়নি”।

আরও পড়ুন- ভুয়ো শংসাপত্র কাণ্ডে জড়িয়েছে নাম, তাও মেডিক্যাল কাউন্সিলের সভাপতি তৃণমূলের নির্মল মাজিই, বিক্ষোভ ডক্টর্স ফোরামে

বেশ উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “পরিবহণ ব্যবসা ভেঙে পড়েছে। সাধারণ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মাথায় হাত পড়েছে জয়গাঁর সাধারণ মানুষেরও। এখানে তেলের পাম্প না-থাকায় স্কুটি অথবা বাইকে তেল ভরতে ১৮ কিলোমিটার দূরে হাসিমারায় যেতে হয়। ফলে পাঁচ লিটার তেল ভরলে যাতায়াতেই অনেক পেট্রল খরচ হয়ে যাচ্ছে। ফলে এক লিটার পেট্রলের যা দাম, প্রকৃত দাম আরও অনেক বেশি দিতে হচ্ছে জয়গাঁর বাসিন্দাদের। এ ভাবে চলা সত্যিই দায় হয়ে পড়েছে। অথচ বাঁচার কোনও পথ খোলা নেই”।

RELATED Articles